(দিনাজপুর২৪.কম) বোমা হামলার হুমকিতে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে দেখা দিয়েছিল হুলস্থুল কান্ড। বিমান সংস্থাটির ফ্লাইট এমএইচ ১২৮ অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে উড্ডয়ন করে আসছিল কুয়ালালামপুরে। কিন্তু উড্ডয়নের ৩০ মিনিটের মধ্যে শ্রীলঙ্কার ২৫ বছর বয়সী মনোধ মার্ক এতে বোমা হামলার হুমকি দেয়। সে ককপিটে পাইলটদের কাছে যেতে চেষ্টা করে। এতে তটস্থ হয়ে পড়েন স্টাফরা। আতঙ্কে কাঁপতে থাকেন আরোহীরা। এমন সময় অস্ট্রেলিয়ার সাহসী কমপক্ষে ৩ জন আরোহী মনোধকে পাকড়াও করেন। বিমান ফিরে যায় মেলবোর্নে। গ্রেপ্তার করা হয় মনোধকে। পরে দেখা যায়, সে আসলে একজন মানসিক রোগি। যে জিনিস দিয়ে সে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছে তা ভুয়া। তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। সেখানে সে বলেছে, নিরাপত্তা হেফাজনে নিরাপত্তা নিয়ে সে উদ্বিগ্ন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে ওই সাহসী তিন আরোহীকে ‘হিরো’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।  খবরে বলা হয়, বিমানটি উড্ডয়নের পর পরই মনোধ খুবই অস্বাভাবিক একটি বস্তু নিয়ে ককপিটে পাইলটদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে। তার হাতের ওই বস্তুটিতে এন্টেনার মতো দুটি বস্তু ছিল। এ ছাড়া সে এর বাটনে হাত দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দিচ্ছিল। এ সময় বিমানের সাহসী তিনজন আরোহী তাকে জাপটে ধরে মেঝেতে ফেলে দেন। তার কাছ থেকে দ্রুত কেড়ে নেন ওই বস্তুটি। ততক্ষণে বিমানটি ফিরে যায় মেলবোর্নে। হাজির হয় পুলিশ। প্রথমে তারা এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে সন্দেহ করলেও পরে এটাকে মনোধকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, ভিতরে যখন এমন ধস্তাধস্তি তখন বিমানটি নিরাপদে মেলবোর্নের মাটি স্পর্শ করে। হুমকি দেয়া মনোধকে প্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাকে সন্ত্রাসী বলে সন্দেহ করা হলেও দেখা যায় বুধবারই সকালের দিকে মেলবোর্নের একটি মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে ছাড় পেয়েছে শ্রীলঙ্কার ২৫ বছর বয়সী মনোধ।

এ তথ্য দিয়েছেন ভিক্টোরিয়া পুলিশ প্রধান কমিশনার গ্রাহাম অ্যাশটন। তিনি বলেছেন, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী হিসেবে সন্দেহ হলেও পরে দেখা যায় এটা আসলে মানসিক অসুস্থতাজনিত ইস্যু। পুলিশ বলেছে, ওই ব্যক্তি ব্লুটুথ স্পিকার বা এর মতোই একটি জিনিস বহন করছিল। তবে মালয়েশিয়ার ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট মন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন কাপরাবি বলেছেন, মনোধের হাতে যা ছিল তা আসলে একটি পাওয়ার ব্যাংক। অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের সাবেক খেলোয়াড় লিওনসেলি বলেছেন, ওই জিনিসটিতে দুটি এন্টেনা ছিল। দেখে মনে হয় এর ভিতরে লুকানো ছিল একটি স্মার্টফোন। মনোধ পরে বলেছে, নিজের মেজাজ বিগড়ে যাওয়ার আগে সে বিমানের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে সাক্ষাত করতে চেয়েছিল। তাই সে হুমকি দিয়েছে। লিওনসেলির ভাষায়, তার এ হুমকিতে আমি অন্য যাত্রীদের বললাম, এটা কিন্তু একটি সত্যিকার বড় ধরনের হুমকি। আমাদের কিছু একটা করা দরকার। ফলে আমার ডাকে সাড়া দিলেন কয়েকজন। তাদের নাম বলবো না। আমরা শক্তি প্রয়োগ করে ধরে ফেললাম ওই ব্যক্তিকে। এর আগে লিওনসেলি মেলবোর্নের থ্রি এ ডব্লিউ রেডিও স্টেশনকে বলেন, ওই ব্যক্তি বিমানটি উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল। এতে স্টাফরা সহায়তা চেয়ে আর্তনাদ করছিলেন। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স বলেছে, ওই ফ্লাইটটি ছিল এয়ারবাস এ ৩৩০। এতে তখন আরোহী ছিলেন ৩৩৭ জন। আট ঘন্টার ফ্লাইটের ৩০ মিনিটের মধ্যেই এতে এ ঘটনা ঘটে। বিমানটি মেলবোর্নে অবতরণ করার পর পরই সশস্ত্র পুলিশরা তা ঘিরে ফেলে। গ্রেপ্তার করা হয় ওই ব্যক্তিকে। স্থানীয় মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে বিমানটি অবতরণের পর ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে পুলিশের দেড় ঘন্টা বিলম্ব হয়। তবে মি. অ্যাশটন এ অভিযোগের জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন।  তিনি বলেছেন, সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন ওই বিমানে আরো ভয়াবহ বিস্ফোরক থাকতে পারে অথবা আরো হুমকিদাতা থাকতে পারে এতে। যদি এ অবস্থায় এতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালানো হতো তাহলে তাতে ব্যাপক প্রাণহানীর আশঙ্কা ছিল। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হয়েছে সবার আগে। ওদিকে এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের বেশ কিছু ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন করে অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে এখন তা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। -ডেস্ক