(দিনাজপুর২৪.কম) ঢাকার মালীবাগে যাত্রীবাহী বাসচাপায় দুই গার্মেন্ট শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় সড়কে নেমে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছেন তাদের সহকর্মীরা। এই ঘটনায় চালককে আটকসহ বাসটি জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে মালিবাগের আবুল হোটেলের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-নাহিদ পারভিন পলি (২০) ও মিম আক্তার (১৪)। তারা দুইজনই মালিবাগের পদ্মা সিলেমা হলের বিপরীতে এমএইচ গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করতেন। পলির গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায়, মীমের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায়। মগবাজারের পূর্ব নয়াটোলায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারা।

সুমি নামে তাদের এক সহকর্মী জানান, পলি ও মীম দুপুরের খাবার খেতে কারখানা থেকে বাসায় যাচ্ছিলেন। রাস্তা পার হওয়ার সময় সদরঘাট থেকে গাজীপুরগামী একটি বাসের নিচে চাপা পড়েন তারা। দুর্ঘটনাস্থলেই মীমের মৃত্যু হয়। সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট শুভ কুমার দে গুরুতর আহত অবস্থায় পলিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রামপুরা জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট শুভ কুমার দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুপুরে মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস পোশাক শ্রমিক মিম ও পলিকে চাপা দেয়। এসময় ঘটনাস্থলে মারা যান মিম। গুরুতর আহত অবস্থায় পলিকে ঢামেক হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় চালককে আটকসহ বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে, সহকর্মীর মৃত্যুর খবর পেয়ে আশপাশের গার্মেন্টগুলো থেকে বেরিয়ে আসেন পোশাক শ্রমিকরা। এসময় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা মালিবাগ ও চৌধুরীপাড়া এলাকায় শতাধিক বাস ভাঙচুর করেছেন। তারা আবুল হোটেলের সামনে একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেন। তবে, পরবর্তী সময়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চলছিল। তাদের বিক্ষোভের কারণে ওই সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রামপুরা ব্রিজ থেকে মৌচাক পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভাঙচুর হওয়া বাসগুলো পুলিশের সহায়তায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফজলুল করিম বলেন, ‘এ ঘটনায় বাসটি জব্দ ও চালককে আটক করা হয়েছে। তবে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করছেন। তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’ শিগগিরই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। -ডেস্ক