(দিনাজপুর২৪.কম) গণতন্ত্র, বেসামরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারিসহ ১১ কর্মকর্তা ঢাকা আসছেন আজ। কূটনৈতিক সূত্র মতে, দুটি  গ্রুপে তারা ঢাকায় পৌঁছবেন। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের ভোজ-বৈঠকসহ একাধিক কর্মসূচিতে তারা একত্রে অংশ নেবেন। আগামী ৩১শে মার্চ পর্যন্ত দল দুটি বাংলাদেশে থাকছে। এই সময়ে সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সিরিজ মিটিংয়ে (একক ও যৌথ) ব্যস্ত সময় কাটাবেন তারা। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ সুয়লের নেতৃত্বাধীন দলটির ঢাকা সফরের বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের পাঠানো তথ্যমতে, ২৫শে মার্চ থেকে থাইল্যান্ড সফরে রয়েছেন সারাহ সুয়ল। ব্যাংকক থেকে সরাসরি বাংলাদেশে আসবেন তিনি। এখানে অবস্থানকালে সুশাসন এবং সহিংস-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করবেন তিনি। নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মানবাধিকার পরিস্থিতিও আলোচনায় স্থান পাবে। দূতাবাসের পাঠানো তথ্য মতে, বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিমান উড্ডয়ন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আলোচনা করতে ২৯-৩১শে মার্চ একটি আন্তঃদাপ্তরিক প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। দলটিতে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, ফেডারেল এভিয়েশন এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা থাকছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অ্যালান বার্সিন দলটির নেতৃত্ব দেবেন। সরকারি সূত্রমতে, কাছাকাছি সময়ে ঢাকায় আসা ওই দুটি দলের সম্মানে তাদের সফরের শেষদিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম একটি ভোজের আয়োজন করছেন। মধ্যাহ্নভোজের আগে বা পরে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারিসহ দুটি দলের ১১ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর আলোচনা হবে। এক সঙ্গেই মার্কিন কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আলোচনা করবেন। সেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। ওইদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটির বৈঠক হবে। তাছাড়া, আগামীকাল (৩০শে মার্চ) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসবাদবিরোধী একটি জন-বক্তৃতা করবেন মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ সুয়ল। ‘আওয়ার শিয়ার স্ট্রাগল এগেইনস্ট ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম’ শীর্ষক ওই বক্তৃতা করবেন তিনি। এদিনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রিজভীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এদিকে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, দলটির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হতে পারে। সারাহ দুই বছরের বেশি সময় ধরে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে নাগরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের বিষয়টি দেখভাল করছেন। বাংলাদেশে এটা তার প্রথম সফর। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিসহ সার্বিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন ওই প্রতিনিধির ঢাকা সফরকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যমতে, মোট সাতটি ব্যুরো ও অফিস প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ সিওয়েল। আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে ডক্টর সারাহ সুয়ল হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট-এ শিক্ষকতা করেছেন, যেখানে তিনি “কার সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস পলিসি”র পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবাধিকারবিষয়ক কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন।  ডক্টর সুয়ল যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে  বেসামরিক নিরাপত্তা বিষয়ে বিশদ কাজ করেছেন। ক্লিনটন প্রশাসনের অধীনে তিনি শান্তিরক্ষা এবং মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রথম “ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব ডিফেন্স” হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।  নির্বাহী বিভাগে  যোগদানের আগে ডক্টর সুয়ল ছয় বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র “সিনেট মেজরিটি লিডার” জর্জ জে. মিচেলের জ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃদাপ্তরিক প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তারা ঢাকায় সফরকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও বিমান মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনায় বসছেন। কূটনৈতিক সূত্র বৈঠক আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রমতে ৩১শে মার্চ সকালে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিশেষ করে আকাশ পথের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। ওই প্রতিনিধি দলের সফরের বিষয়ে গতকাল ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কর্মকর্তাদের ঢাকা সফরকে আমরা স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে এ সুযোগকে দুই দেশের নাগরিকদের জন্য অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মতামত বিনিময়ে কাজে লাগাতে চাই।-ডেস্ক