-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আটকে পড়া মানুষের জীবন বাঁচাতে গিয়ে আহত ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ফায়ারম্যান সোহেল রানা চলে গেছেন না ফেরার দেশে। একটানা ১১ দিন মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে গতকাল রোববার স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৭ মিনিট) তিনি মারা যান। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

আজ সোমবার সকালে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ২৬ জন নিহত এবং ৭১ জন আহত হন। এদিন কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের উঁচু ল্যাডার (মই) দিয়ে আগুন নেভানো ও আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার কাজ করছিলেন।

উদ্ধার কাজের এক পর্যায়ে সোহেলের শরীরে লাগানো নিরাপত্তা হুক মইয়ের সঙ্গে আটকে যায়। এসময় মই থেকে পিছলে পড়ে বিপজ্জনকভাবে ঝুলে পড়েন তিনি এবং তার একটি পা ভেঙে যায়।

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলছিল। সেখানে তাকে প্রতিদিন চার ব্যাগ রক্ত দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতি হচ্ছিল না।

সে সময় সোহেল রানার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সোহেল রানা এখনো সংজ্ঞাহীন। এরই মধ্যে তাকে ২১ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। আরো রক্ত দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, তার শরীর সেই রক্ত নিতে পারছে না। সে কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এর প্রেক্ষিতে গত ৫ এপ্রিল তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়।

আরো পড়ুন : বনানী অগ্নিকাণ্ড : আহত ফায়ারম্যানকে সিঙ্গাপুর নেয়া হচ্ছে
রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত ফায়ারম্যান সোহেল রানাকে আজ সিঙ্গাপুর নেয়া হচ্ছে। তিনি এখন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।

তার অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়াতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সন্ধ্যায় তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে যায়েদ।

তিনি জানান, আজ সন্ধ্যায় সোহেল রানাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়ার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সেখানে তার উন্নত সিকিৎসা দেয়া হবে।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধণ বলেন, চিকিৎসকরা সোহেল রানার বিষয় অপরিবর্তিত বলে জানিয়েছেন। তাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাতে সিঙ্গাপুরে নেয়া হচ্ছে।

সোহেল রানার পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোহেল রানা এখনো সংজ্ঞাহীন। এরই মধ্যে তাকে ২১ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। আরো রক্ত দেয়া প্রয়োজন তবে সেই রক্ত তার শরীর নিতে পারছে না।

গত ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা ঘটনাস্থলে উঁচু মই দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করেন। এক পর্যায়ে নিরাপত্তা হুক মইয়ের সাথে আটকে যায় সোহেল রানার শরীর। পরে সোহেল পড়ে গিয়ে বিপদজনকভাবে আহত হন। তখন তার একটি পা ভেঙে যায়। -ডেস্ক