সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম

(দিনাজপুর২৪.কম) হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে সোনারগাঁওয়ের এক রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনার একদিন পর সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামকে ‘জনস্বার্থে বদলি’ বদলি করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তবিদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক এক নারীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে যান। পরে সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। মামুনুল হকের দাবি তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রিসোর্টে অবকাশ যাপনে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। হেফাজত কর্মীরা নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ করে। রয়্যাল রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় রোববার যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতার নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দেয় হেফাজতে ইসলাম। সেই সঙ্গে থানা পুলিশকে দোষারূপ করছে হেফাজত। এ ঘটনার রোববার পর রাতে ওসিকে বদলি করা হয়।

২০২০ সালের ৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা থেকে পুলিশ সুপারের নির্দেশে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব নিয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম।

এদিকে যে মামলা করা হয়েছে, তার বাদী ঢাকা-১০ আসনের হেফাজত নেতা মুফতি ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী। সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনিকে প্রধান ও অজ্ঞাতনামা কতিপয় লোকজনকে আসামি করে এ অভিযোগটি দায়ের করেন।

অন্যদিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম রাব্বানীকে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করায় গতকাল রোববার তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু করেছেন।

পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. মুহিদ উদ্দিন জানান, গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাহার করে তাকে পেশার বাইরে গিয়ে কেন অপেশাদার আচরণ করেছেন- এটা জানতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার ও ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

ফেসবুক লাইভে এসে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের প্রশংসা করে গোলাম রাব্বানী বলেন, মামুনুল হক হুজুরের একটি ভিডিও দেখলাম। যে ভিডিওতে দেখা যায়, স্ত্রীকে নিয়ে একটা রিসোর্টে গেছেন তিনি। অধিকাংশ সাংবাদিক সেখানে চিল্লাপাল্লা করে তার কাবিননামা দেখতে চাচ্ছে। আমার প্রশ্ন- সাংবাদিককে এই অধিকার কে দিয়েছে। আপনি যে কাবিননামা দেখবেন, আপনাকে এই অধিকার কি রাষ্ট্র দিয়েছে? আমি তো পুলিশের চাকরি করি, আমার জানা নাই। ভণ্ডামির একটা সীমা আছে। যদি স্ত্রী ব্যতীত অন্য কাউকে নিয়ে যেত, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতো। মিডিয়ার মাধ্যমে এমন একটা আলেম মানুষকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ ধরনের হেনস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। -ডেস্ক