(দিনাজপুর২৪.কম)  গৃহবধূকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন মামলার প্রধান আসামী কলেজ প্রদর্শককে জেলা কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি কাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। নির্যাতনকারীদের অবিরাম হুমকির মুখে নির্যাতিতা ও তার পরিবার প্রাণ রক্ষায় বাড়ী ছেড়ে শহরে আশ্রয় নিয়েছেন।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার গালতৈড় কাচালডাঙ্গা গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের পুত্র কারেন্টহাট ডিগ্রি কলেজের প্রদর্শক সহিদুল ইসলাম (৩৫) মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রেজাউল বারীর আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে তাকে জেলা কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। বিকেলেই তাকে পুলিশ কারাগারে নিয়ে যায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন আসামী সহিদুলকে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।  চিরিরবন্দর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আনিসুর রহমান জানান, ২৬ আগষ্ট চিরিরবন্দর উপজেলার গালতৈড় গ্রামের হোসেন আলী বাদী হয়ে তার স্ত্রীকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। ২৭ আগষ্ট মামলার আসামী একই গ্রামের রকিবুল (৩৪) ও মনজুরুল (৩২) আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন পান। বাদীর অভিযোগে প্রকাশ, ২৫ আগষ্ট সন্ধ্যায় তার স্ত্রীকে একই গ্রামের সহিদুল মাষ্টার, রকিবুল ও মঞ্জুরুল অপহরণ করে পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালায়। ঘটনাটি টের পেয়ে এলাকার যুবক রবিউল ও সাজ্জাদ বাধা দিলে তারা গৃহবধূ রেহেনাকে ফেলে পালিয়ে যায়। ওই গৃহবধূকে ঘটনার দিন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ৩১ আগষ্ট বিকেলে গৃহবধূ রেহেনা বাড়ী ফিরলে পুনরায় তাকে ওই দুর্বৃত্তরা হত্যা ও নির্যাতনের হুমকি দেয়।
হোসেন আলী তার স্ত্রীকে নিয়ে নিরাপত্তা না থাকায় গ্রামের বাড়ী ছেড়ে দিনাজপুর শহরে এসে জাতীয় মহিলা আইনজীবী ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে আশ্রয় নেয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের স্থানীয় শাখার সভাপতি সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন লাবু, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভানেত্রী এ্যাডঃ তৈয়বা বেগম ও মহিলা পরিষদের সভানেত্রী কানিজ রহমান, নির্যাতিতা গৃহবধূ রেহেনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুলিশ সুপার মোঃ রুহুল আমিনের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও নির্যাতিতা পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ ফয়সাল জানান, নির্যাতিতা গৃহবধূ রেহেনার শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।

-মো. নুরুন্নবী বাবু