(দিনাজপুর২৪.কম)

 39475_lead

লক্ষ্য অনুযায়ি দেশকে গড়ে তুলতে নেতাদের রূপরেখা দিতে বললেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেতাদের আলাদাভাবে এ প্রস্তাবনা জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে দলের যৌথসভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। নব নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বৈঠকে অংশ নেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শুরু হওয়া মুলতবি বৈঠক গতকাল গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়।  বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন। জনগণের কল্যাণ করাই আমাদের কাজ। এবারের জাতীয় সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছি আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে দেশে কোন দারিদ্র থাকবে না। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। এ জন্য মাঠ পর্যায়ে তালিকা প্রণয়নের নিদের্শ দিয়েছি। এখন আপনাদের কার কী ধারণা রয়েছে তা দিন। দেশকে দারিদ্রমুক্ত ও ক্ষুধামক্ত করবোই। কেউ গৃহহারা, স্বাস্থ্যহীন ও নিরক্ষর থাকবে না।  নিজের জন্য নয়, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তৃণমুল থেকে দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। দেশের গ্রামাঞ্চলের চেহারাও আজ পাল্টে গেছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেদিন আর বেশি দূরে নয়, বাংলাদেশে একটি মানুষও দরিদ্র থাকবে না, একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। দেশের কেউ নিরক্ষর থাকবে না। দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়ন হবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত চিকিৎসা পাবে। উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড় করানোর মাধ্যমে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করবো ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমরা সেই অর্জনের পথে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার ভিশন জাতির সামনে তুলে ধরেছি। ইনশাল্লাহ এই ভিশনও আমরা পূরণ করতে পারব। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি উল্লেখ বলেন, বাংলাদেশকে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি শান্তিপুর্ন দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ঠাঁই হবে না। দেশের মানুষ সোচ্চার হলে এসব বন্ধ হবে। ইতোমধ্যে দেশের মানুষকে আমরা সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করেছি। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। এ জন্য দেশের মানুষের কাছে যেতে হবে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মানুষকে আরো সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ রুখে দেব।
‘দেশের গণতন্ত্র নেই’ বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যে সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, জাতির দুভাগ্য যে দলটিরই জন্মই অবৈধভাবে সেই দলের নেতাদের মুখে গণতন্ত্রের ছবক শুনতে হয়। তারা এখন গণতন্ত্রের জন্য সোচ্চার হয়েছেন। যে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নির্বাচন ব্যবস্থাকে কুলষিত করেছিল। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রাত ১০ টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছিলো। একটি মানুষ বাসার বাইরে যেতে পারেনি, এমনকি হাসপাতালেও যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল সেই দলের নেতাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়। এ দলটির মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না।  বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কার্যনির্বাহী সংসদের অধিকাংশ কর্মকর্তা অংশ নেন।