(দিনাজপুর২৪.কম) জন্ম থেকেই দুই হাত নেই মানিকের। কিন্তু পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকে পা দিয়ে লেখা শেখে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার এই শিক্ষার্থী। চলতি বছর অনুষ্ঠিত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় ‘জিপিএ ৫’ পেয়েছে সে।

ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মানিক রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে প্রকাশিত ফলাফলের পর মানিকের এই অর্জনে খুশি হয়েছেন তার স্কুলের শিক্ষকগণ। সন্তানের ফলাফলে দারুণ আনন্দিত মানিকের বাবা-মাও।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের ঔষধ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ও মরিয়ম বেগমের সন্তান মানিক। দুটি হাত নেই, তার একটি পাও আরেকটির তুলনায় ছোট।

মানিকের বাবা-মা জানান, পড়াশোনার প্রতি ছোটবেলা থেকেই প্রবল আগ্রহ তাদের সন্তানের। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় জিপিএ ৫ ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় সে।

পা দিয়ে লেখা বাদেও মোবাইল চালনা করতে পারে মানিক। এ ছাড়া কম্পিউটারে বাংলা ও ইংরেজি টাইপিং, ইন্টারনেট ব্যবহারেও পারদর্শী সে।

মানিক জানায়, বড় হয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করে একজন ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় সে। মা-বাবার স্বপ্নপূরণও করতে চায় মানিক।

ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার পরও মানিক রহমান অন্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে ভালো ফলাফল করায় আমরা মুগ্ধ ও আনন্দিত। সে জীবনে অনেক বড় হোক এ দোয়া করি।’ -ডেস্ক