(দিনাজপুর২৪.কম)দেশজুড়ে জামায়াতে ইসলামীকে যখন নিষিদ্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে পথ চলতে চাইছে জামায়াত। এতে আপত্তিও নেই আওয়ামী লীগের। বিভিন্ন জেলায় দলে দলে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে শুরু করেছেন জামায়াতের নেতারা। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলে এখন জামায়াত নেতা-কর্মীদের পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায় আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীরা। চাকরি প্রদান, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সহযোগিতার পাশাপাশি জ্বালাও-পোড়াও, নাশকতাসহ ডজন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি জামায়াত-বিএনপির নেতাদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ সুবিধা নিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করে প্রতিপক্ষকে দলে ভেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি-মন্ত্রীরা। এটা মানতে পারছেন না মাঠের নেতারা। বিপরীত মতাদর্শের দলের নেতা-কর্মীদের জায়গা দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন তারা। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে শরিক জোটে ও তৃণমূল আওয়ামী লীগে। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক যথেষ্ট আছে, নতুন করে দলে লোক নেওয়ার দরকার নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দল বদল হলেও নীতি-আদর্শ সহজেই পরিবর্তন হয় না। এরশাদ সরকারের সময়ও জাতীয় পার্টিতে যোগদানের হিড়িক ছিল। এরপর বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখন জাতীয় পার্টির নেতারা বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিভিন্ন দলের নেতাকে দলে ভেড়াতে দেখা গেছে। দল ভারী করলেও ২০০১ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক দল জামায়াতকে নিয়ে খেলা বড় দুই রাজনৈতিক দলের জন্য ভালো নয়। এখন জোটে রাখা ও দলে ভেড়ানো নিয়ে যা করা হচ্ছে তা নোংরা রাজনীতি। আওয়ামী লীগের উচিত নীতি-নৈতিকতার জায়গায় অটুট থাকা। নইলে পরিণাম ভালো হবে না।’ জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, সুযোগ-সুবিধা নিতে তৃণমূলে জামায়াত-বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কতটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। রাজশাহী বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও ক্যাডারভিত্তিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়। সবার জন্য আওয়ামী লীগের দরজা খোলা। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী বাদে স্বাধীনতার পরবর্তীতে জামায়াতের যে কোনো নেতা তাদের ভুল বুঝতে পেরে যদি আওয়ামী লীগে আসতে চান তাহলে তাদের দলে নেওয়া দোষের কিছু নয়। নীলফামারী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা। তার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরাই অভিযোগ করেছেন, তিনি এখন জামায়াত-শিবিরের প্রধান পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায় নেমে পড়েছেন। জানা গেছে, ২০০৯ সালে দাঁড়িপাল্লা মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরা সদস্য ও নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির আজিজুল ইসলাম। তার ছেলে মুজাহিদ বিন মাসুদকে আইডিয়াল কলেজে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত ফারুক হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আরাফাত আলীকে টেংগনমারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে, ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া মামলার অন্যতম আসামি নুর হককে জলঢাকা ডিগ্রি কলেজে, শিবির নেতা ও জলঢাকা উপজেলা জামায়াতের আমিরের জামাতা মোহাম্মদ হাবিবকে বিন্নাকুড়ি ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ দিয়েছেন স্থানীয় এমপি গোলাম মোস্তফা। জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ হোসেন রুবেল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘জামায়াতের অনেক টাকা, আর টাকা হলে আওয়ামী লীগের এমপিদের কেনা যায়।’ টাকার বিনিময়ে স্থানীয় এমপি গোলাম মোস্তফা জামায়াত-শিবিরকে চাকরি দেওয়াসহ পুনর্বাসনে নেমে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সহিংসতা-নাশকতার অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের ৫০০ নেতাকর্মীর নামে মামলা থাকলেও এমপির কারণে তাদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। তিনি বলেন, নীতিভ্রষ্ট এমপিদের কারণে আজকে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী কোণঠাসা। এ অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম মোস্তফা এমপি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় অসংখ্য প্রতিষ্ঠান আছে। সেসব প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির লোকজন কী করবে, কাকে নিয়োগ দেবে সে দায়িত্ব আমার না। যারা আজকে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে তারা ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে  আমাদের সঙ্গে ছিলো না। নৌকায় ওঠেনি, নৌকা ডোবাতে যা যা করা দরকার করেছে। তিনি বলেন, ১৪ বছর ধরে জলঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয় না। যখনই কাউলিন্সের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তখনই পদ-পদবী হারানো ভয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।  রাজশাহীতে শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান হলেন রাজশাহী-১ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি এক সময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। সরকারের গত মেয়াদে রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকান্ডের অভিযোগে স্বাধীন গ্রেফতারও হয়েছিলেন। সে সময়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশ তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। পরবর্তী সময়ে অদৃশ্য কারণে এ মামলার অভিযোগপত্র থেকে স্বাধীনের নাম বাদ পড়ে। মেডিকেল কলেজটির অনুমোদনের পর ওমর ফারুক চৌধুরীকে হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ও মালিকানায় অংশীদার করা হয়। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায় ফারুক চৌধুরীর প্রচেষ্টায়। জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন জামায়াত সংশ্লিষ্ট শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজে নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করায় সম্প্রতি কলেজটিকে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ১৫ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মুহম্মদ মিজান উদ্দিনকে তার দফতরে দেখে নেয়ার হুমকি দেন ওমর ফারুক চৌধুরী। শুধু চাকরি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে সহযোগীতাই নয়, সারাদেশে জামায়াত-শিবির-বিএনপি নেতাদের আওয়ামী লীগে যোগদানের হিড়িক পড়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা আফজাল হোসেন পিন্টু ডজনখানেক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। গত ১২ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। একই দিনে স্থানীয় সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মতিউর রহমানও আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুদ্দীন মণ্ডলের সভাপতিত্বে এ যোগদান অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও সাবেক মেয়র খায়রুজ্জমান  লিটন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আবদুল ওয়াদুদ উপস্থিত ছিলেন। এর কিছুদিন আগেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-বিএনপির সহস াধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। অভিযোগ রয়েছে, আবদুল ওয়াদুদ নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের দলে ভিড়াচ্ছেন। বিগত সময়ে যেসব জামায়াত নেতা হুকুম দিয়ে বা সরাসরি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়ি ঘর ভাংচুর করেছেন, তারাই এখন আওয়ামী লীগে ভিড়ছেন।১৩ জুন জয়পুরহাট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বিএনপির ৮ শতাধিক নেতাকর্মী এবং ৬ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচবিবি উপজেলা জামায়াতের মজলিসে শুরার কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সালামের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদুর হাতে ফুলেল তোড়া দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধমে আওয়ামী লীগে যোগদান করে।  ১২ জুন নাটোরের সিংড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপিকর্মী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের হাত ধরে দলবদল করে। একই দিনে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া ফুল দিয়ে সদর উপজেলার মৌকরণ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কুদ্দুস তালুকদারের নেতৃত্বে মৌকরণ এবং লাউকাঠি ইউনিয়নের দুই শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মীকে আওয়ামী লীগে নেন। সেদিনই জামালপুর-১ আসনের এমপি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের হাত ধরে বকশীগঞ্জে উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সওদাগরের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করে।৬ জুন ভোলা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও বিএনপি নেতা মঞ্জুর আলম আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এর আগে ৮ মে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের শরিক বিজেপির প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। সেদিনই ভোলা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুদ্দিন রাঢ়ি, জেলা ছাত্রদলের নেতা মীর পাভেল, আশরাফ শিশিরসহ নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগ দেন।৬ জুন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর সাতপোয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এর দুই দিন আগে ৪ জুন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ফজর আলী মেম্বারের নেতৃত্বে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ৮০ জন নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।২৪ মে নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৩ মে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেদোয়ান চৌধুরী নয়ন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুলের হাত ধরে আওয়ামী লীগে আসেন।১৫ মে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। শ্রমিক দলের সহসভাপতি দীলবার ও লতব্দী ইউনিয়ন বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক আক্তার হোসেন মেম্বারসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষের হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করেন।৯ মে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিএনপি নেত্রী ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রিনা হালিম এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা শরীফ হোসাইনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের দুই শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করে। তারা টঙ্গির বোর্ডবাজার এলাকায় শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেলের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর আগের দিন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চরবংশী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মজিবুল হক গাজী, যুবদল নেতা সফিক ঢালি ও মনির হোসেন ঢালিসহ দুই শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়।২ মে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে বিএনপি ও ছাত্রদলের প্রায় আড়াই হাজার নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় এমপি হাবীবে মিল্লাত মুন্না। এর আগে ১৭ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল আকন্দের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন।২১ এপ্রিল জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস সরকারের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। এর তিন দিন আগে ১৮ এপ্রিল পাবনা সদর উপজেলার চর তারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে আসে। ১৪ এপ্রিল কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে স্থানীয় আট বিএনপি-জামায়াত নেতাসহ সহস্রাধিক কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়।৫ এপ্রিল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি সাব্বিরুল হক তালুকদার শামীমের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে আসে। একই দিনে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের সাত ইউপি সদস্যসহ দুই হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। গত ২১ মার্চ আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন আশুলিয়া বিএনপির একদল নেতাকর্মী। ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমানের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আশুলিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল লতিফের নেতৃত্বে ৩৪ জন বিএনপি নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন।গত বছরের ১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের হাত ধরে কুষ্টিয়ায় জামায়াতের রুকন নওশের আলী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।