(দিনাজপুর২৪.কম) মানবিক গুণাবলি থাকলে খালেদা জিয়া সবকিছু ত্যাগ করে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছেন। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছেন। জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু খালেদা জিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। লন্ডনে বসে টুইটারে বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন। মানবিক গুণাবলি থাকলে সবকিছু ত্যাগ করে দেশে এসে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতেন তিনি।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। সাবেক কর কমিশনার ও মুক্তিযোদ্ধা এস এম জাহাঙ্গীরের চারটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর।

তোফায়েল আহমদ বলেন, আমরা ১৬ কোটি মানুষের দেশ, অতি ঘনবসতিপূর্ণ। কিন্তু আমাদের হৃদয় আছে। আমাদের মন আছে। এসব দেখে আমাদের একাত্তরের স্মৃতি ভেসে ওঠে। কীভাবে আমাদের মা-বোন সেদিন ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। সুতরাং আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। সে অভিজ্ঞতার আলোকেই মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে এদের (রোহিঙ্গা) আমরা আজকের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছি। আমরা মনে করি অনতিবিলম্বে সে গণহত্যা বন্ধ করা উচিত।

তিনি বলেন, লন্ডনের একটি নাম করা টেলিভিশনে মাদার অব হিউম্যানিটি (মানবতার মা) খেতাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভূষিত করে নিউজ প্রচার করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে একটি দল (বিএনপি) আছে যারা অং সান সু চির সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দাঁড় করিয়েছে। চিন্তা করে দেখেন ওরা কত নোংরা। এদের চিন্তা চেতনা কত নিচু।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের কিছু লোক আছে যাদের দল নাই, দলহীন; তারা সুযোগ পেলে সরকারে বিপক্ষে এবং বিএনপির পক্ষে দাঁড়ায়। তারা বলে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা তেমন না। কূটনৈতিক তৎপরতা না থাকলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের নিন্দা করল কীভাবে? তারা (ইইউ) বলেছে, তারা (মিয়ানমার) একদিকে বাণিজ্যিক সুবিধা নেবে, অন্যদিকে গণহত্যা করবে, তা হতে পারে না। মিয়ানমারের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক বিশ্ব এখন গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। -ডেস্ক