-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে কর্মহীন ও ছিন্নমূল মানুষদের তালিকা তৈরি করে বাড়ি বাড়ি খাদ্য সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ থাকলেও ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলররা সহায়তার নামে করছে প্রতারণা।

ছিন্নমূল মানুষের কাছ থেকে নিচ্ছেন ভোটার আইডি কার্ড কিন্তু প্রকৃত দুস্থরা ফিরছেন খালি হাতে। এমন একটি চিত্র দেখা গেছে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩নং ওয়ার্ডে।

গতকাল সোমবার দুপুর সোয়া ২টা। ত্রাণের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন ১২০ বছরের বৃদ্ধা শামসুর নাহার। তিনি স্বামী সন্তান হারিয়ে মেরাদিয়া কমিশনারের গলিতে রাস্তার পাশে বসবাস করেন।

কেউ রাখেন না নাহারের খবর। ‘নির্বাচন আইলেই শুধু কাউন্সিলরকে দেখি। নির্বাচিত হওয়ার পর আর পাই না। খবর পাইলাম চাউল দিবে। তিন দিন আইলাম কেউ তো চাউল দিলো না। গরিব বইলা কেউ খবর দেয় না।

করোনা নামে কি যে আইলো। কেউ কিছু দেয় না। আগে দুই এক টাহা পাইতাম। তা দিয়ে কোনোমতে জীবন বাছাইতাম। কতদিন ধরে কিছু খাই না। ভোটার আইডি কার্ড ফটো কপি করলাম সেই দুই টাকা গেছে জলে।’ কথা বলছিলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধা সূর্য বানু। তিনিও স্বামী সন্তান হারা।

জামালপুর বড়ভিটা গ্রামে তার বাড়ি। নদীভাঙনে ভিটেমাটি বিলীন হয়েছে। স্বামী মারা গেছেন। সন্তান রেল কাটায় খোয়া গেছে। সব হারিয়ে ১৫ বছর আগে ঢাকায় এসেছেন কাজের সন্ধানে।

শেষ পর্যন্ত তার ঠাঁই মিলেছে মেরাদিয়ার কমিশনার গলির ফুটপাতে। সেখানে ছোট্ট খুপরিতে বাস করছেন। মাটি কাটা, ইটভাঙার মতো কায়িক শ্রম করে কোনোমতে চলে তার সংসার। এ রকম আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন ওই ফুটপাতে।

এই ফুটপাতে এভাবে বসবাস করছেন ৮০ বছরের বৃদ্ধা মর্জিনা বেগম, মাফিয়া বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাকসুদা বেগমসহ আরও অনেকেই। তাদের মুখে একই কথা। একটাই পরিচয় তাদের। সবাই ছিন্নমূল, গৃহহীন।

সরেজমিন দেখা যায়, খিলগাঁও রেললাইনের পাশে, রামপুরা মধুবাগ, মেরাদিয়া কমিশনার গলিতে পলিথিনের ঝুপড়ি ঘর। তারা অধিকাংশই হতদরিদ্র ও দিনমজুর।

গতকাল সোমবার মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দেশে শহর ও গ্রামে কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

এসব মানুষ অর্থাৎ ভিক্ষুক, ভবঘুরে, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন ও রেস্তোরাঁ শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানির তালিকা তৈরি করে খাদ্য সহায়তা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়নপর্যায়ে ওয়ার্ডসহ সকল শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু কাউন্সিলররা দিচ্ছেন তাদের পছন্দের লোকদের। আবার কেউ একেবারেই দিচ্ছেন না। কেউ বলছেন সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানছেন না কাউন্সিলররা।

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদ হোসেন মহসিন বলেন, সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই, দিবো কিভাবে? আইডি কার্ড নিয়ে ত্রাণ দেয়া হয়নি; এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, আইডি কার্ড নিলে দিতে হবে। এতো দেয়ার অবস্থা আমার নেই। আমি তো তাদের বাসায় আসতে বলিনি। তারা সকাল হলে আসে।

কিন্তু এখানে এসে ফিরে যাওয়া লোকজন বলছে আপনার সচিব তাদেরকে আসতে বলেছে? জবাবে কমিশনার জানান, আমার অনুমতি না নিয়ে কাউকেই এখানে ত্রাণের জন্য আসতে বলার কথা না। তাছাড়া সবার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেয়ার কথাও অস্বীকার করেন এ জনপ্রতিনিধি। সূত্র : আ. সংবাদ