সুকুমার রায় বাবু, আটোয়ারী (দিনাজপুর২৪.কম) পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলাধীন তোড়িয়া নতুন হাট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ কলিম উদ্দিনের বেতের প্রহারে লাবনী(১২) অজ্ঞান। মাদ্রাসায় প্রতিদিনের ন্যয় রুটিন অনুযায়ী ক্লাস হয় ০১/০৯/২০১৫ইং তারিখে দুপুর ৩.০০ঘটিকায় ঐ ক্লাসের শিক্ষক না থাকায় মাদ্রাসার সুপার ক্লাস নিতে যায়। ক্লাসে অনেক ছাত্র/ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে ৮জন ছাত্রীর বই পুস্তক টেবিলে আছে কিন্তু ছাত্রীরা নেই। অফিসের পিয়ন মোঃ হামিদ কমন রুমে গিয়ে তাদেরকে ক্লাসে আসতে বলেন। তারা বলেন আমাদের ক্লাসের স্যার আজকে আসেননি। কিছুখন পর সুপার গিয়ে বলেন তোমরা কমন রুমে কেন? এ কথা বলার সাথে সাথে সবাইকে ব্যত দিয়ে বেধরক পিটায়। তোড়িয়া ডুহাপাড়া গ্রামের মমিরুলের মেয়ে লাবনী ব্যতের আঘাতে মাটিতে লুটে পড়েন। ঐ এলাকার আনছারুলের মেয়ে আরনিকা হবিবর রহমানের মেয়ে সাথী, এন্তাজুলের মেয়ে রুপসানা, ডাবলুর মেয়ে জেমি সকলেই সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। লাবনী মাটিতে লুটে পড়ার কিছুখন পর বাড়িতে খবর দেয়, লাবনী ও শ্রাবনীর বাবা খবর শুনে মাদ্রাসার দিকে দৌড়ায় আসে। এলাকার মানুষ জন শ্রাবনীর বাবাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলে আমার মেয়েকে মাদ্রাসার সুপার মেরে অজ্ঞান করে ফেলেছে। এক কথা শুনে এলাকাবাসী সবাই মাদ্রাসায় ছুটে আসে এবং মেয়েকে অজ্ঞান দেখে তারা তাৎখনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তোড়িয়া এলাকার মানুষ একত্রিয় হয়ে সুপারের কাছে মার পিটের বিষয়টি জানতে চাইলে সুপার বলেন আমি তাদেরকে কোন ধরনের মারপিট করিনি। একলাকাবাসী চিল্লা হুল্লা করলে আরো এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে সুপারের বিরুদ্ধে আনন্দোলন শুরু করেন। এদিকে সুপার বলেন আমি অন্যায় কিছু করিনি আপনাদের যা ইচ্ছে তাই করেন। মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম আটোয়ারী থানায় খবর দিলে থানার এসআই মোঃ রাজু সরকার ও বারঘাটি পুলিশ ফারির এসআই মোঃ মজিদ তাৎখনিক গিয়ে ১০মিনিটের মধ্যেই উত্তেজিত এলাকা মানুষকে নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু ঐ এলাকার কিছু দুষকৃতি ও সুবিধাভোগি মানুষ সুপারকে নিয়ে এসে মারপিট করার চিন্তাধারা করেন। আটোয়ারী উপজেলা থেকে এক দল গণমাধ্যম কমী ঘটনা স্থলের তথ্য নিয়ে আসার সময় আসির উদ্দীনের ছেলে মোঃ মইনুল হক বলেন মাদ্রাসার সুপার হলো খাটি চোর  সে অনেকদিন থেকে অপকর্মের সাথে জড়িত। মইনুলের উসকানিতে এলাকার মানুষ উত্তেজিত হয়ে সুপারকে মারধর করার চেষ্টা করে এবং ৫.৩৭ মিনিটে পুলিশ হেফাজতে আটোয়ারী থানায় নিয়ে আসে। লাবনীর বাবা মমিরুলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমি কোন অভিযোগ করবোনা। আটোয়ারী থানার এসআই রাজু সরকারের সাথে কথা বলে জানা জায় এ বিষয়ে কোন মামলা করবে না। তবে ঐ এলাকার কিছু দুষকৃতি মানুষ বিষয়টি চাঞ্চচলের সৃষ্টি করেন।