(দিনাজপুর২৪.কম) মাদরাসা এবং মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিতরা জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, মাদরাসা জঙ্গিবাদের কারখানা- এটি সঠিক নয়। এই কথা মোটেও বলবেন না। কারণ গুলশান হামলার সঙ্গে জড়িতদের কেউ মাদরাসার ছাত্র ছিল না। তারা উচ্চবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত ছিল। গতকাল (শুক্রবার) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) অডিটরিয়ামে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘ফাজিল অনার্স শিক্ষার মান উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গুলশান-শোলাকিয়াসহ দেশের বিভিন্নস্থানে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মানুষ মারলেই বেহেস্তে যাওয়া যাবে, হুরপরি পাওয়া যাবে বলে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে এবং কুমন্ত্রণা দিয়েছে এখন তারা নিজেরাই প্রাণভিক্ষা চাচ্ছে। ছেলে-মেয়েরা যাতে জঙ্গিবাদে জড়িত না হয় কিংবা বিপথগামী না হয় সেজন্য শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সমাজের সবাইকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা অর্জনও প্রয়োজন রয়েছে। এর ফলে আলেমরা শুধু আলেমের মধ্যেই সীমাবন্ধ থাকবে না। তারা সচিব, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও বিসিএস ক্যাডার হয়ে উঠবে। তারাও দেশ পরিচালনায় শরিক হবে। এ জন্য মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সেই উপযোগী করে তৈরি করার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। মাদরাসায় প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামের ব্যাখ্যা ও বাস্তব জীবন ব্যবস্থার জন্য উচ্চশিক্ষার পাঠদানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মাদরাসায় প্রকৃত ইসলামী জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞানও অর্জন করতে হবে। এজন্য বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জ্ঞান ও গবেষণা বাড়াতে হবে।
ইসলামি শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষার সাথে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে নাহিদ বলেন, ইসলামি শিক্ষার উন্নয়ন, ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার জন্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৪৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। যা একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মাধ্যমে এদেশের আলেম সমাজের শত বছরের দাবি পূরণ করা হয়েছে। এর ফলে ইসলামের ব্যাখ্যা ও ব্যাপক চর্চা গড়ে উঠবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় ৫২টি মাদরাসায় অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষার জন্য আলাদা অধিদপ্তর ও মাদরাসা বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ সরকারের আমলেই এক হাজার ৩৩২টি মাদরাসা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ৩৫টি মাদরাসাকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে; ভবন, ল্যাবসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। প্রতি সংসদীয় আসনে ৬টি করে মোট এক হাজার ৮০০ মাদরাসা-ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কেউ যাতে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে না পারে, সেজন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে আলেম সমাজের প্রতি আহŸান জানান শিক্ষামন্ত্রী।
মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বিষয়ে নাহিদ বলেন, মাদরাসা শিক্ষকদের বেতনভাতা এবং মর্যাদার তারতম্য দূর করা হয়েছে। তাদের মর্যাদা ও বেতন ভাতা সাধারণ শিক্ষকদের সমান করা হয়েছে। মাদরাসায় আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় করে আইসিটি, বিজ্ঞান এবং বাংলা-ইংরেজী চালু করা হয়েছে। ফলে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সব ধরনের চাকরির সুয়োগ উন্মুক্ত হয়েছে। তারা একদিকে যেমন ভাল আলেম হবেন, তেমনি ভাল অফিসারও হতে পারবেন। মাদরাসায় অনার্স শিক্ষার মান উন্নয়নে সবধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে তিনি কোর্সগুলোর সিলেবাস ও কারিকুলাম উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশমালা তৈরিরও পরামর্শ দেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, যে সরকার নিজেরা ইসলামী সরকার, সৎলোকের সরকার দাবি করেছিল। তাদের আমলে কোনো মাদরাসা ভবন হয়নি। মাদরাসা শিক্ষকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় মাদরাসার কিছু শিক্ষক নৌকা মার্কায় ভোট দিলে দেশে ইসলাম থাকবে না, ইসলাম ধ্বংস হয়ে যাবে বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। বরং এই সরকারের আমলে মাদরাসা ও মসজিদের সংখ্যা বেড়েছে। যেসব শিক্ষক এই অপপ্রচার করেছেন তাদের ঈমান দুর্বল। আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক প্রফেসর মো. ইলিয়াছ সিদ্দিকী, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোঃ বেলাল হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষরা। -ডেস্ক