-ফাইল ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) দেশজুড়ে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে ১০ জেলায় অন্তত ১২ জন গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আইন-শৃ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহতরা সবাই মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিল। কারও কারও বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত কথিত এসব বন্দুকযুদ্ধ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের ভাষ্য। এসব ‘বন্দুকযুদ্ধের’ যে বিবরণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে আসছে, তা মোটামুটি একই রকম। তাদের দাবি, অভিযানের সময় মাদক চক্রের সদস্যরা গুলি চালালে পাল্টা গুলিবর্ষণ হয়, তাতেই এদের মৃত্যু ঘটে।

তবে বিভিন্ন সময়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে, ধরে নিয়ে হত্যা করা হয় তাদের স্বজনদের। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের ঘটনাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে তা দমন করছে- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলছেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা, এই ব্যাপারে জিরো টলারেন্স; সে সংসদ সদস্য হোক, সরকারি কর্মকর্তা হোক, নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা হোক, যেই হোক, ইভেন সাংবাদিক হোক, কাউকে আমরা ছাড় দেব না।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা বিভাগওয়ারি এ তালিকা নিয়ে অভিযান চলছে। মাদক বিক্রেতারা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

শুক্রবার রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাবুল (৪০) ও আলমাস (৩৫) নামে দুই মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ২টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও এক রাউন্ড বুলেটসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। নিহত বাবুল উপজেলার আশাবাড়ি ও আলমাস উত্তর তেতাভূমি এলাকার বাসিন্দা। ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কবির জানান, বাবুলের বিরুদ্ধে ১৬টি ও আলমাসের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভিমপুর এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রেন্টু নামের এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প কমান্ডার শামীম হোসেন জানান, মাদকের একটি বড় চালান কেনাবেচা হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি দল রাতে ভিমপুর এলাকায় যায়। টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এসময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ওই মাদক বিক্রেতা গুলিবিদ্ধ হন এবং বাকি তিন/চারজন পালিয়ে যান। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, এক নলা বন্দুক ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শাহজাহান (৩০) নামে শীর্ষ এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের তেলওয়ারী গন্ডিমোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজাহানের বিরুদ্ধে মাদক আইনে আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, রাতে ওই এলাকায় মাদক বিক্রেতারা মাদক ভাগাভাগি করছেন। খবর পেয়ে জেলা ডিবি ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে মাদক বিক্রেতারা ইট, পাটকেল ও গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও শাহজাহান গুলিবিদ্ধ হন। এ অবস্থায় শাহজাহানকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জেলা ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান আরো জানান- বন্দুকযুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম খান, আঠারবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খন্দকার মামুন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোজাহারুল আহত হয়েছেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন, পাঁচটি গুলির খোসা, একটি রামদা ও একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন ও সদর উপজেলার রামসাগরে দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময়ে আরো একজন মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ মে) রাত ৩টা দিকে এ ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন-বীরগঞ্জ উপজেলার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা সাবদারুল ইসলাম (৪২) ও সদর উপজেলার রামসাগর আব্দুস সালাম (৪৭)।র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১৩ দিনাজপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক (সিও) মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, ভোরে বীরগঞ্জে বিপুল মাদক পাচারের খবর পেয়ে র‌্যাব অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে সাবদারুল গুলি ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে তার কাছে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড তাজা গুলি, এক রাউন্ড গুলির খোসা, প্রায় দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত হন দুই র‌্যাব সদস্য।এ ঘটনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সদর উপজেলার ছয় নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের রামসাগর এলাকায় দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময়ে আব্দুস সালাম (৪৭) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ মে) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রামসাগর পশ্চিম দেয়াল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত আব্দুস সালাম ওই এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেদওয়ানুর রহিম জানান, রাতে রামসাগর এলাকায় দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল সেখানে গেলে আব্দুস সালামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ অবস্থায় আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, চারটি হাত বোমা, একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক বিক্রেতা বাবলু (৩৫) নিহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।শুক্রবার (২৫ মে) দিনগত রাত ৩টার দিকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১০ নম্বর আশরাফপুর ইউনিয়নের বনরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তার বাড়ি থেকে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।নিহত বাবলু ওই গ্রামের সুলতার মিয়ার ছেলে। কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা ডিবি ও কচুয়া থানা পুলিশ বাবলুর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনি গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হন বাবলু। এ অবস্থায় বাবলুকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। মরদেহ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আব্দুর রহমান শেখ (৪৫) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছে তিন পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা, বন্দুক ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস (আপরাধ) জানান, মাদকের লেনদেন করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে পাবনা সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর বাস টারমিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের একটি দল। এসময় আব্দুর রহমান ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় আব্দুর রহমান।ঘটনাস্থল থেকে দুইশ’ পিস ইয়াবা, একটি দেশি তৈরি শাটারগান, বন্দুকের তিনটি তাজা গুলি, গুলির খোসা ও ৫শ’ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুর রহমান শেখ পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের মৃত আছের উদ্দিন শেখের ছেলে। তার নামে পাবনা সদর থানায় বিভিন্ন ধরনের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোবারক হোসেন কুট্টি (৪৪) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ মে) ভোর রাতে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। মোবারক হোসেন সদর উপজেলার ছিট চিলারং গ্রামের মৃত শফির উদ্দিনের ছেলে। ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফরহাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান তার বিরুদ্ধে সদর থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে।

বরগুনা প্রতিনিধি: শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকা থেকে ছগির খান নামে এক মাদক বিক্রেতার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, ভোর ৫টার দিকে গোলাগুলির শব্দে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এসময় তারা থানায় ফোন করলে পুলিশ এসে এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি খুঁজে পান। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত ছগির খান বরগুনা সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের কুমড়াখালী এলাকার বাসিন্দা।বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুজ জামান বলেন, মাদক বিক্রেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে।

ফেনী প্রতিনিধি: সদর উপজেলায় ‘দুই পক্ষের গোলাগুলিতে’ কবির হোসেন (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার ভোররাতে উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের রুহুতিয়া রাস্তার মাথা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয় জানিয়ে পুলিশ বলছে, ডাকাতি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। নিহত কবির পরশুরাম উপজেলার ধনিকুণ্ডা গ্রামের আবুল খালেক বেতু মিয়ার ছেলে।
ফেনীর মডেল থানার ওসি রাশেদ খান চৌধুরী জানান, ভোররাতে রুহুতিয়া ব্রিকস ফিল্ড এলাকায় গোলাগুলির খবর পায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে কবির হোসেন নামে একজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছ, নিজেদের দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, একটি কার্তুজ ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ইব্রাহীম আলী (৩৪) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে দুই পুলিশ সদস্য। পুলিশ জানায়, শনিবার (২৬মে) ভোর রাতে ভারতীয় সীমান্তঘেষা দক্ষিণ বাঁশজানী গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে যায় পুলিশ।এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের উপর আক্রমন চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে মাদক পাচার সিন্ডিকেট প্রধান ইব্রাহীম পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে ভূরুঙ্গামারী হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা তাকে কুড়িগ্রাম হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে সকাল ৯ টায় তার মৃত্যু ঘটে।নিহত ইব্রাহীম আলী দক্ষিন বাশজানি গ্রামের মৃত ইনসাফ আলীর পুত্র। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। ইব্রাহীমের নামে ভুরুঙ্গামারী থানায় ৪টি মাদকের মামলাসহ অন্যান্য থানায়ও মাদকের মামলা রয়েছে।এব্যাপারে ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বন্দুকযুদ্ধে এএসআই নাদের ও আইয়ুব নামে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে এবং মাদক সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে গেছে। অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম পুলিশ কন্ট্রোলরুম সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধা থেকে শনিবার ভোর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

-ডেস্ক