(দিনাজপুর২৪.কম) পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই ভারতে অনুপ্রবেশ ও সীমান্তে দুই দেশের মাদককারবারিদের সঙ্গে যোগসাজসের অভিযোগে পঞ্চগড় পুলিশের দুই সদস্যসহ ৪ জনের নামে মামলা করেছে পুলিশ। ওই মামলায় গতকাল পঞ্চগড় পুলিশ লাইনে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক মোশারফ হোসেন ও কনস্টেবল ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত সোমবার রাতে ওই ৪ জনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান। অন্য আসামিরা হলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের মোমিনপাড়া এলাকার মাদককারবারি আমিরুল ইসলাম ও মাসুদ। তবে মাসুদের ঠিকানা ও পরিচয় এজাহারে উল্লেখ নেই।

মামলা সূত্রে জানা যায়, এএসআই মোশারফ হোসেন ও কনস্টেবল ওমর ফারুক এবং মাসুদ নামের এক মাদককারবারি রবিবার রাতে সদর উপজেলার হাড়িভাসা মোমিনপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে অপর মাদককারবারি আমিরুলের সঙ্গে ভারতে প্রবেশ করে। তারা ভারতের সিপাইপাড়া এলাকার মাদককারবারি ভুট্টুর বাড়িতে যায়। সেখানে কোনো বিষয় নিয়ে ভুট্টুর সঙ্গে তাদের বাগবিত-া হয়। একপর্যায়ে দুই পুলিশ সদস্য ভুট্টুর হাতে হাতকড়া লাগিয়ে নিয়ে আসতে চাইলে ভারতীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া করে। এ সময় তারা পুলিশ সদস্য ওমর ফারুককে আটক করে মারধর করে। বাকিরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে পার্শ্ববর্তী চানাকিয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়। রাতেই পুলিশ হাড়িভাসার টেনশন মার্কেট থেকে পুলিশ সদস্য ওমর ফারুকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। সোমবার সন্ধ্যায় ওমর ফারুককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত এনে পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিজিবি। এদিকে আগে থেকেই পুলিশের নজরবন্দিতে ছিলেন এএসআই মোশারফ হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। বাকি দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই দুই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সীমান্তের মাদককারবারিদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা মাঝেমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত করতেন।

পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেন বলেন, পাসপোর্ট ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ওই দুই পুলিশ সদস্যসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।