বি. এম. জুলফিকার রায়হান (দিনাজপুর২৪.কম) চলতি বোরো মৌসুমে তালা উপজেলায় ব্রি-২৮ জাতের ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, সময়মতো সেচ ও সার ব্যবহার করায় চাষীরা ব্রি-২৮ ধান চাষ করে একর প্রতি প্রায় ৬৮মন (শুকনা) ধান উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। ধানের এই বাম্পার উৎপাদনে কৃষকরা অধিকতর লাভবান হবে।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সহযোগীতায়, সংস্থার কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার তালা সদর ইউনিয়নের আটারই গ্রামে ব্রি ধান-২৮ কর্তন করার পর উৎপাদনের এই তথ্য জানাযায়। স্থানীয় কৃষক রুহুল আমীনের বোরো ক্ষেত থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ব্রি ধান-২৮ কর্তন উপলক্ষ্যে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগে মাঠ দিবস সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তালা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ মো. সামছুল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন, তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারন সম্পাদক বি. এম. জুলফিকার রায়হান, ব্রাকের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচীর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আল মামুন হাওলাদার, কৃষিতত্ত্ববীদ আলিম খান, উপসহকারী কৃষি অফিসার আসমা আহম্মেদ ও ব্র্যাক কর্মী প্রদ্যুৎ কুমার সহ স্থানীয় কৃষক ও কৃষাণীরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার, কৃষিবীদ মো. সামছুল আলম বলেন, ব্র্যাকের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচীর আঙ্গিকে ব্রি ধান-২৮ চাষাবাদ করলে সহজে পরিবার ভিত্তিক স্বাভলম্বি হওয়া যায়। তিনি চলতি বোরো মৌসুমে একর প্রতি প্রায় ৬৮ মন ব্রি ধান-২৮ উৎপাদন হওয়ায় উচ্ছাসিত হয়ে চাষীদের আরো বেশি কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষন প্রদানের জন্য ব্র্যাকের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তাদের প্রতি তাগিদ দেন।
সফল কৃষক রুহুল আমীন জানান, ব্র্যাকের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন ও সার্বিক সহযোগীতা নিয়ে তিনি ব্রি ধান-২৮ চাষ করেন। এতে একর প্রতি গড় প্রায় ৬৮মন ধান উৎপাদন হওয়ায় তিনি অধিকতর লাভবান হয়েছেন। একারনে তিনি অন্য চাষীদের একই ধান চাষে আহবান জানান।
এব্যপারে ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আল মামুন হাওলাদার বলেন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় ব্র্যাকের কারিগরি সহায়তা দিয়ে প্রান্তিক এ’ জনগোষ্ঠির জমিতে উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান-২৮ চাষাবাদ করানো হয়। ফলে কৃষকরা কাঙ্খিত ধান উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। অন্য জাতের ধানের চেয়ে ব্রি ধান-২৮ চাষাবাদ করে অধিক ধান উৎপাদন হওয়ায় আগামীতে কৃষরা এই ধান চাষাবাদ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।