(দিনাজপুর২৪.কম)চলিত পেশীশক্তি আর দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি থেকে দূরে থাকা নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি এবার মূল্যায়িত হচ্ছেন। দলের জন্য ‘দৃষ্টান্তমূলক ত্যাগ’ করে মন্ত্রী সভার আসন্ন রদবদলে নতুন মুখ হিসেবে আসতে পারেন তিনি। সরকারের উচ্চপর্যায় ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে ঈদের পরপরই আগস্টের প্রথম সপ্তাহে সরকারের মন্ত্রিসভা রদবদল হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন নাছিম, সিরাজগঞ্জের সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. হাবিবে রশিদ মিল্লাত, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সাথে মন্ত্রী সভায় স্থান পেতে পারেন চট্টগ্রামের নুরুল ইসলাম বিএসসি।

প্রধানমন্ত্রীর গুড বুকে আছেন- সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক ও দিনাজপুরের সাংসদ, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এ ছাড়া ওয়েটিংয়ে আছেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সহ তিনজন।

অন্যদিকে বিতর্কিত কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীকে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় দেওয়া হচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

এদিকে রাজনীতির সঙ্গে তিন দশকেরও বেশি সময় জড়িত থাকা ক্লিন ইমেজের নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসি ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের রাজনীতির কারণে চট্টগ্রাম-৯ আসনটি নেত্রীর নির্দেশে বিনা বাক্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর কাছে ছেড়ে দেন তিনি। দলের জন্য দৃষ্টান্তমূলক ত্যাগ করে দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী এই নেতা এখন সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষ নজরে আছেন।

জানা যায়, দলের জন্য ত্যাগ থাকা সত্ত্বেও যথার্থ মূল্যায়ন না হওয়ায় অনেকটা অভিমান নিয়েই দলীয় রাজনীতিতে কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা নুরুল ইসলাম বিএসসির ভাগ্য এবার খুলছেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনজরে আছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে গত সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ও সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ে ভূমিকা রাখার পুরস্কার হিসেবে নুরুল ইসলাম বিএসসিকে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রীর পদ দেয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা অথবা বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বিএসসিকে।

প্রসঙ্গত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য একজন রাজনীতিবিদের বাইরেও স্বতন্ত্র পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে শিল্পপতি নুরুল ইসলাম বিএসসির। ১৯৮৮ সালে দলের দুঃসময়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক হন এবং একাধিকবার তিনি সহসভাপতি হন। এর আগে ষাটের দশকে প্রায় অর্ধ দশক সক্রিয় ছিলেন ছাত্রলীগে। এ ছাড়া বহুধা বিভক্ত নগর আওয়ামী লীগের একটি অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন নুরুল ইসলাম বিএসসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বিএসসির ব্যক্তিগত সহকারী নিয়াজ মোরশেদ নীরু বলেন, ‘মন্ত্রী পরিষদের সদস্য করা সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাইনি। আমরাও আপনাদের মতো শুনতে পেয়েছি, স্যারকে মন্ত্রী করা হবে।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রী সভার রদবদল আসন্ন। তবে কে মন্ত্রী হবেন, কে বাদ পড়বেন সেটা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ জানেন না।’ এছাড়া মন্ত্রী সভায় নিজের নাম অর্ন্তভুক্তির বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন ড. হাছান।

এদিকে গুজবের মধ্যেই বৃহস্পতিবার এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপর মন্ত্রী সভায় রদবদলের বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে।(ডেস্ক)