(দিনাজপুর২৪.কম) জাতির মেধা উন্নয়নে রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ‘তদবির সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
 তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে তদবির সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এ সংস্কৃতি জাতিকে মেধাশূন্য করে দিচ্ছে। তদবির সংস্কৃতি জাতির মেধার অপচয় করে। এর মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন হয়। এ সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রীর মুখের ওপর সংবিধান অনুসারে তদবির ফিরিয়ে দিতে না পারলে হবে না। মেধা উন্নয়নে তদবিরের সংস্কৃতি বন্ধ করুন।’ রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের সুরমা হলে রবিবার দুপুরে পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও তথ্য কমিশনের ‘পারফরমেন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’র ওপর আয়োজিত এক সেমিনারে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশপ্রেম না থাকলে কোনো দক্ষতাই কাজে দেবে না। দেশপ্রেম না থাকলে জাতি ধ্বংস হয়ে যায়। সরকারি কর্মকর্তারা যারা আছেন তারা বলেন, আমরা রাজনীতি বুঝি না। দেশ রসাতলে যাচ্ছে। আপনি রাজনীতি বোঝেন না— এ ধরনের কাথা ঠিক নয়। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মধ্যে অবশ্যই সংবিধানে জনগণের অধিকার নিয়ে কী বলা হয়েছে তা আনতে হবে। এ ছাড়া অবশ্যই মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা জানতে হবে।’ সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ সবাইকে ক্ষমতা দেয় না। যাদের দেয়, তাদের এ ক্ষমতা প্রয়োগে পরিমিতিবোধ থাকা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়াস চালানোর সময় সংবিধান অনুসরণ করতে হবে। অনেকেই বলেন, বাংলাদেশ দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। আমি তা মনে করি না। তবে যারা বোমা মারছে, নারী নির্যাতন করছে, আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে চায় তারাই দেশ দুই ভাগ হয়েছে বলছে।’
‘অতীতের সামরিক শাসনের জঞ্জাল ঝেড়ে ফেলতে হবে’— এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে চারটা যুদ্ধ মোকাবেলা করতে হবে। তা হলো— দারিদ্র্যতা, পরিবেশ, লিঙ্গ ও জঙ্গিবাদ। এ চার যুদ্ধে জয়ী হয়েই ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশন পূরণ করা সম্ভব।’
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিবি) উদ্যোগে এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের সহযোগিতায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. সাদত হুসেইন।
‘প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সচিব ও যুগ্ম-সচিব— এ চার স্তরে দুর্নীতি না থাকলে আর কোনো জায়গায় দুর্নীতি থাকবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
সেমিনারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে স্বাধীন করা হয়েছে। স্বাধীন হলেও তারা বুঝতে পেরেছে যে, সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে হবে। কারণ পাবলিক সার্ভিস কমিশন সরকারের কাজে লোক নিয়োগের সুপারিশ করে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা তথ্য অধিকার আইন চান না। এ কথা সত্য নয়। অবশ্যই আমরা তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। রাজনৈতিক সদিচ্ছায় এ কাজ করা হয়েছে। সংস্কার আমাদের জন্য প্রয়োজন। আমরা যদি নিজেদের সংস্কার করতে না পারি তাহলে আমরা নেতৃত্বে যেতে পারব না। ই-গভর্নেন্সের ক্ষেত্রে শহরের চেয়ে গ্রামপর্যায়ে কাজ বেশি হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা এতে কাজ করছেন।’
প্রশ্নপত্র ফাঁসে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) জড়িত নয় দাবি করে কমিশনের চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ বলেন, ‘সরকারের সকল যন্ত্র এখন কাজ করছে। ইতোপূর্বে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব শোনা গেছে, তা সত্য নয়। প্রশ্নপত্র তৈরি, খাতা দেখার কাজ পাবলিক সার্ভিস কমিশন করে না। এগুলো থার্ড পার্টি দিয়ে করানো হয়। আমরা পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ ঊর্ধ্বে রেখে কাজ করে যাচ্ছি।’ ‘তবে কীভাবে প্রশ্নপত্র আউট হয় তা আমি বলতে চাই না’— যোগ করেন তিনি। সেমিনারে অংশ নেন- ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিবি) নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান, তথ্য সচিব মর্তুজা আহমেদ, তথ্য কমিশনার ড. খুরশিদা বেগম সাইদ, কেবিনেট ডিভিশনের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন খান প্রমুখ। -ডেস্ক