(দিনাজপুর২৪.কম) মন্ত্রিসভায় আজ রদবদল হচ্ছে। এতে নতুন করে কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়াও দফতর পরিবর্তন করা হবে। ইতিমধ্যে ছয়জনের একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনই নতুন মুখ। টেকনোক্র্যাট কোটায় একজন মন্ত্রী হচ্ছেন। শপথ অনুষ্ঠান হবে  বিকেলে। ছয়টি গাড়ি প্রস্তুত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্টদের ফাইল তৈরি করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই সম্ভাব্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নতুন মন্ত্রীদের শপথ পাঠের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বঙ্গভবন। প্রস্তুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগও। যাদের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তারা হলেন- কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ডা. দীপু মনি, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, নুরুল ইসলাম বিএসসি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও তারানা হালিম। সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে। নুরুল ইসলাম বিএসসি জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ফোন করে শপথ নেওয়ার বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। তারানা হালিমও জানিয়েছেন যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব তাকে বেলা ৩টা পর্যন্ত প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। সূত্র জানায়, তারানা হালিমকে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে।সূত্রমতে, নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংবিধান ও রুল অব বিজনেসসহ প্রয়োজনীয় কিছু বই সরবরাহ করে থাকে। আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে রবিবার সংবিধানের ছয়টি কপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। জানা যায়, মন্ত্রিসভা রদবদল পর্যায়ে পারফরম্যান্স বিবেচনায় কারও কারও কপালও পুড়তে পারে। বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর। দেড় বছরে যেসব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কারণে সরকার এবং দলকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে, লাগামহীন কথাবার্তায় বারবার বিব্রত হতে হয়েছে, তেমন কয়েকজন ছাঁটাই হচ্ছেন। এ ছাড়া যারা দক্ষতা ও যোগ্যতার ছাপ ফেলতে পারেননি, তাদেরও কপাল পুড়তে পারে এবার। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ১২ জানুয়ারি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২৯ মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী এবং দুই উপমন্ত্রী শপথ নেন। পরে আরেক দফা ২৫ ফেব্রুয়ারি এ এইচ মাহমুদ আলী ও নজরুল ইসলাম যথাক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর গত দেড় বছরে মন্ত্রিসভায় আর কোনো পরিবর্তন বা অন্তর্ভুক্তির ঘটনা ঘটেনি। তবে হজ, ধর্ম ও সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। সূত্রমতে, সরকারের বছরপূর্তিতে এ পরিবর্তন ঘটানোর ইচ্ছা থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য সে সময় তা হয়নি। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন শুরু হলে পরিবর্তনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। জানা গেছে, গতকাল ক্যাবিনেট বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে ফাইল প্রস্তুত করতে বলা হয় সংশ্লিষ্টদের জন্য। দাফতরিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। (ডেস্ক)