আফজাল হোসেন (দিনাজপুর২৪.কম) দেশের উত্তরাঞ্চলের এক মাত্র দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পে পাথর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত ফেব্রুয়ারী মাসে প্রতিদিন তিন শিফটে অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে খনি থেকে পাথর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বে-সরকারি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া-ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) ফেব্রুয়ারী মাসে (সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলি ও সরকারী ছুটি ব্যাতীত) প্রতিদিন তিন শিফটে ২৩ দিনে পাথর উত্তোলন করেছে প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন। যার গড় উৎপাদন প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন। ফলে ঐ মাসে জিটিসি’র বিদেশী খনি বিশেষজ্ঞদের পাথর উত্তোলনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা ছিল তা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি পুরো দমে চলছে খনির উন্নয়ন ও নতুন নতুন স্টোপ নির্মান কাজ। মধ্যপাড়া পাথর খনি সুত্রে জানা গেছে, বে-সরকারি সংস্থা জিটিসি তিন শিফটে পাথর উত্তোলন শুরুর পর থেকে প্রতিদিন তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে খনি কর্তৃপক্ষ (এমজিএমসিএল) এর পাথর বিক্রিও বাড়ছে। মধ্যপাড়া পাথরের গুনগত মান উন্নত হওয়ায় সরকারী এবং বেসরকারী অবকাঠামো নির্মাণ কাজে এর চাহিদা এতো বেশী যা অন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলিকে সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। আর্ন্তজাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মধ্যপাড়ার পাথরের দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি করা হলেও পাথরের চাহিদা কমেনি বরং প্রতিনিয়ত বাড়ছে। জিটিসি’র পাথর উত্তোলন কার্যক্রমে খনি কর্তৃপক্ষ পাথর খনিটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ব্যাপারে আশাবাদী। জিটিসি সুত্র জানায়, তারা দ্রুততার সাথে খনির ভু-গর্ভে নতুন স্টোপ নির্মান ও খনি উন্নয়ন করে সফলতার সাথে তিন শিফটে প্রতি মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে। নতুন নতুন স্টোপ নির্মানেও জিটিসি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। কেননা ইতিপুর্বে পাথর খনিতে ১ বছরে খনির ভু-গর্ভে একসঙ্গে এতগুলো স্টোপ নির্মানের কোন নজির নেই। সুত্রটি আরো জানায়,পাথর উত্তোলনের পরিমান যে হারে বাড়ছে ,খুব শীঘ্রই জিটিসি’র দ্বারা খনির তিন শিফটে পাথর উত্তোলন পুর্বের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে। জিটিসি’র অধীনে বিদেশী খনি বিশেষজ্ঞ দল, দক্ষ খনি শ্রমিকরা এবং দেশী প্রকৌশলীরা পাথর খনিটিতে বিশ্বমানের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ স্থাপন করে খনির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পাথর উত্তোলন করে এই খনিটিকে সরকারের লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের এক মাত্র মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পটি লাভ জনক করতে বে-সরকারি সংস্থা জিটিসি ও এমজিএমসিএল দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।