ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল। ছবি : সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি। আজ শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজা শেষে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই শ্রদ্ধা জানান। এসময় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিচারপতি আইনজীবী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে পৌঁছলে তার কফিনে দলীয় পতাকায় ঢেকে দেওয়া হয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে বেলা ১১টায় সাবেক উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী মওদুদ আহমদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার আগে লাশের সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মওদুদ আহমদ ছিলেন একজন কিংবদন্তি। তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ, আইনজীবী। তিনি পরিবর্তনের পক্ষে সব সময় কাজ করতেন। সে পরিবর্তন হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তার চলে যাওয়ায় দেশে একটি শূন্যতা দেখা দিয়েছে। আজকে আমাদের যে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কঠিন দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি মওদুদ আহমদের চলে যাওয়ায় তা আরও বেশি অনুভব করবো।’

জানাজায় অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ছাড়াও দলের ভাইস-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী,ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকনসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। আজ দিনের শুরুতে সকাল সোয়া ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদের  মরদেহে বিএনপির নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানান।

আওয়ামী লীগের কোনো নেতা মওদুদ আহমদের মরদেহ শ্রদ্ধা না জানানোর প্রসঙ্গ টেনে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার ইতিহাস লিখতে গেলে, প্রবাসী সরকারের ইতিহাস লিখতে গেলে মওদুদ আহমদকে বাদ দেওয়া যাবে না। আমরা এমন একজন নায়ককে হারালাম।

পৌনে ১২টায় মরদেহ বাড়ি অ্যাম্বূলেন্স বিমানবন্দরে উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে নেওয়া হবে মওদুদ আহমদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মানিকপুরে।

মরদেহ নেওয়া হবে মওদুদ আহমদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে। সেখানে বাদ জুমা কবিরহাট সরকারি কলেজ মাঠ ও বিকেল চারটায় কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজ মাঠে দুটি জানাজা হবে। মানিকপুরে শেষ জানাজার পর তাকে সেখানেই দাফন করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে আসার পর মরদেহ নেওয়া হয়েছে তার গুলশানের বাড়িতে। বর্ষীয়ান নেতা মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে গতকাল বৃহস্পতিবার শোক কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। প্রয়াত এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।

বৃহস্পতিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকতা শেষে তা গ্রহণ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

গত ১৬ মার্চ সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মওদুদ আহমদ মারা যান। গত ১ ফেব্রুয়ারি তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল।-ডেস্ক