(দিনাজপুর২৪.কম) একদিকে ঘরে সদ্য বিবাহিত স্ত্রী, আর অন্যদিকে দেশমাতৃকা হানাদার কবলিত। ৭১ এর টগবগে যুবক মফিউজ্জামানের কাছে সেদিন বড় হয়েছিলো দেশপ্রেম। নববধু জুলেখা বেগমকে বাড়িতে রেখে দেশপ্রেমে ঝাপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। তবে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এসে সেই মফিউজ্জামানকে এখন স্ত্রী-সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিতে চালাতে হয় ভ্যান রিকশা। ৬২ বছর বয়সেও কঠোর পরিশ্রমে তবুও ক্লান্ত নন তিনি। ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক মফিউজ্জামান গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের পুরাণ লক্ষিপুর গ্রামের মৃত রোস্তম আলী ব্যাপারীর ছেলে। মা মৃত হালিমা বেগম।

মুক্তিযোদ্ধা মফিউজ্জামান তার যুদ্ধকালীন সংক্ষিপ্ত বর্ননায় জানান, ৭১-এ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ভারতে প্রশিক্ষণে যান। সেখানে গিয়ে সাদুল্যাপুরের হিরু মিয়াকে দেখতে পান। সেখানে ৪০দিন প্রশিক্ষণ শেষে ১১ নং সেক্টরে ভর্তি হন। সেক্টর কমান্ডার হামিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ও সঙ্গী হিরু মিয়ার সাথে গাইবান্ধার ফুলছড়ি ঘাট ও পরে পীরগঞ্জ-মাদারগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা মফিউজ্জামান আরও জানান, বিগত ১৩ বছর পূর্বে তার ১ম স্ত্রী জুলেখা বেগম মারা যান। এর পর লালমনিরহাট জেলা সদরের বাসিন্দা ফজল উদ্দিনের কন্যা ফরিদা বেগমকে বিয়ে করেন। পৈত্রিক সুত্রে ১শতক জমিতে তার বসবাস। এখানে বসবাসে সমস্যা হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে গুচ্ছগ্রামে বসবাস শুরু করেন তিনি। সেখানেও তার ঠাঁই না হওয়ায় আবার নিজ ভিটায় ফিরে বসবাস করে আসছেন।

এদিকে আবাদী জমি বলতে কিছুই নেই তার। এর ফলে নিজ এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভ্যান-রিকশা চালিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন-যাপন করছেন তিনি।

মফিউজ্জামানের ২য় স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, বয়স বেশী হওয়ায় আগের মতো এখন আর তেমন রোজগার করতে পারেনা। সরকারের দেয়া যে ভাতা পাওয়া যায়, তা দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে যায়। বাধ্য হযে বাড়তি উপার্জনে নামতে হয় তাকে। -ডেস্ক