(দিনাজপুর২৪.কম) আগামী নির্বাচনে প্রচারযুদ্ধের মূল হাতিয়ার হতে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। নির্বাচনে ফেসবুক, টুইটার থেকে শুরু
করে সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রথম দিকে ব্যক্তিগতভাবে এসব ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়। এখন দলীয়ভাবে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে। শুধু উদ্যোগ নয়, এজন্য আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে প্রচারযুদ্ধে সবার দৃষ্টি থাকবে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে এমপিদের সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। একইসঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাতে কী কী প্রচার করতে হবে তাও বলে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা এখনও নিজেরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারেন না তাদের প্রয়োজনে স্টাফ নিয়োগ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বসে নেই অপর বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিও। তারাও প্রচারের জন্য অগ্রাধিকার দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়াকে। বিশেষ করে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে টুইটার ব্যবহার শুরু করেছেন। এ মাধ্যমে তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে নিজের ও দলের মতামত জানাচ্ছেন। তার ওই টুইট বার্তা পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। এভাবেই নির্বাচনকে সামনে রেখে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে প্রচারযুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছেন দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে। এদিকে বসে নেই জামায়াত ইসলামীও। তারাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছেন আগামী নির্বাচনকে টার্গেট করে। তবে বর্তমানে প্রধান বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এ নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। দলটির বেশ কয়েকজন নেতা জানান, শিগগিরই তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার হবেন। তার আগে রাজনৈতিক কিছু সিদ্ধান্ত নেবে দলটি। কি ধরনের সিদ্ধান্ত হতে পারে সে বিষয়ে খোলাসা করে তারা কিছু বলেননি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামীতে জাতীয় পার্টি কিভাবে (একক না জোটবদ্ধ) নির্বাচনে অংশ নেবে তা সুরাহা করে তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হবে। এদিকে প্রচারযুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমকে পেছনে ফেলে অনলাইনকে মূল হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অনলাইন প্রচারণার কার্যকারিতা, সজলভ্যতা এবং বিশ্বনেতাদের নির্বাচনী জয়ে এর ভূমিকা নিয়ে গবেষণার ফল বিবেচনা করে ডিজিটাল মিডিয়াকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। অপপ্রচার মোকাবিলার পাশাপাশি সরকারের সাফল্য তুলে ধরতে জোরদার করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রচারণা। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকা দলটি আগামী নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ অনলাইন প্রচারণার সব কয়টি মাধ্যমের শতভাগ সুবিধা ঘরে তুলতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। জনপ্রতিনিধিসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ অনলাইন প্রচারণায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিদ্যমান অনলাইন মাধ্যমে সক্রিয়দের কাতারে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছেন অনেকে। ৭ই মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন প্রচার চালানোর ওপর জোর দেয়ার পর এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের ১৩৪ জন এমপি। আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এক কর্মশালায় সংসদ সদস্যদের এ প্রশিক্ষণ দেয়। এতে ‘সরকারবিরোধী অপপ্রচারের’ জবাব দিতে আওয়ামী লীগের এমপিদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয়। কর্মশালায় এমপিদের নামে খোলা অবৈধ ফেসবুক পেইজ বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট সঠিকভাবে পরিচালনা করা, অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের নিয়মাবলি, অ্যাকাউন্ট ভেরিফাইড করার পদ্ধতি এবং নিয়মিত উন্নয়নমূলক কাজের কথা প্রচার করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মশালায় এমপিদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার সম্পর্কে শেখানো হয়। এই মাধ্যম ব্যবহার করে কিভাবে সরকারের গ্রহণ করা গত ৭ বছরের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কথা ছড়িয়ে দেয়া যায়, সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাকি সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এদিকে কর্মশালার পর আওয়ামী লীগের নেতাদের কেউ কেউ বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতার সময়কার চিত্র তুলে ধরছেন। আবার কেউ আগামী নির্বাচনে নিজেদের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছেন। উল্লেখযোগ্যের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী এলাকার নানা উন্নয়ন চিত্রে নিজের ভূমিকা প্রচার, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন। আবার প্রতিপক্ষের বিষয়টিকে কেউ কেউ তুলে ধরছেন রাজনৈতিকভাবে। যেমন নির্বাচনী এলাকার কোনো এক কর্মীর স্ট্যাটাস শেয়ার করছেন ওই এলাকার এমপি বা অন্য নেতারা। টুইটারে সক্রিয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এখন পর্যন্ত তিনি ৯৯টি টুইট করেছেন। ‘বেগম খালেদা জিয়া’ নামের এই অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার এখন ২৬ হাজারেরও বেশি। টুইটার বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাইক্রোব্লগিং নিউজ শেয়ারিং এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। বর্তমানে সারা বিশ্বের ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ এ মাধ্যমটি ব্যবহার করছে। খালেদা জিয়ার পাশাপাশি দলটির অন্যান্য নেতারাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার শুরু করেছেন অনেকটা জোরেশোরে। আগামী নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারণা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প, বারাক ওবামা, জাস্টিন ট্রুডো, নরেন্দ্র মোদিসহ বিশ্বনেতাদের নির্বাচনে জয়লাভে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে সোশ্যাল মিডিয়া। রাজনৈতিক নেতারা জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক মানুষ ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছেন। বড় একটা সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত থাকছেন। অনলাইনে পত্রিকা পড়ছেন, টিভি দেখছেন। আগামী নির্বাচনে এ সুযোগটাকে কাজে লাগানো হবে। তারা জানান, অনলাইন কনটেন্ট টেকসই। এটি হারিয়ে যায় না। অনলাইন কনটেন্ট শক্তিশালী, এটি মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এটি ছড়িয়ে দেয়া যায় সহজে। কাগজের পত্রিকা বা টেলিভিশনের পত্রে যেটা ভাবা যায় না। অবশ্য পত্রিকা বা টেলিভিশনগুলোও অনলাইন ভার্সনে মনোযোগী হচ্ছে। সব মিলিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এখন প্ল্যাটফরম হিসেবে ব্যবহার করছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। দলীয় নেতাদের এসব তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ ভোটাররা। মানবজমিনকে তারা জানান, এতে নেতাদের সঙ্গে তাদের দূরত্ব কমছে। পাশাপাশি জবাবদিহির বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যারা সচরাচর তাদের নেতাদের কাছে পান না তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব সহজেই নেতাদের কাছে তাদের অভাব, অনুযোগ বা প্রতিবাদ, প্রতিক্রিয়া জানাতে পারছেন। এতে দলের নেতাদেরও সুবিধা রয়েছে। তারা জানতে পারছেন নির্বাচনী এলাকার মানুষের কথা, তাদের ভাবনা। -ডেস্ক