(দিনাজপুর২৪.কম) জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে ক্ষমতাসীন আ.লীগে বাড়ছে কোন্দল। দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঘিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তৃণমূল রাজনীতি। কেন্দ্রের কড়াকড়ি নির্দেশনা থাকলেও আমলে নিচ্ছেন না কেউ। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান সর্বত্র চলছে গ্রুপিং রাজনীতির ছাপ। দলীয় আর ব্যক্তিগত উদ্যোগের রাজনৈতিক মঞ্চ তো আছেই। দল বা সরকারের উন্নয়ন বাদ রেখেই চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার। নির্বাচনের সময় যতো ঘনিয়ে আসবে বিরোধের বিষবাষ্প আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র মতে, তৃণমূল রাজনীতির এমন দুরবস্থায় শঙ্কায় পড়েছে আ.লীগের হাইকমান্ড। বারবার সতর্ক করার পরও বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা। গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সংসদীয় আসন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পরস্পরবিরোধী বিষোদগার নিয়ে আলোচনা হয়। পরে ক্ষোভ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন থেকে দলের সাংগঠনিক অবস্থা দেখতে বিনা নোটিসে কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা-উপজেলা সফরে যাওয়া যাবে, প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করবে। পরে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। যাদের বিরুদ্ধে সত্যতা মিলবে প্রথমে শোকজ করে কারণ দর্শাতে বলা হবে। এরপর না শোধরালে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তৃণমূল নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ৩টি বিশেষ বর্ধিত সভায়ও দলীয় কোন্দল নিয়ে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। যারা সরকারের উন্নয়ন রেখে অপরের বিরুদ্ধে বলবে, তারা আর যাই হোক নৌকার মনোনয়ন পাবেন না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি। তথ্য মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের কড়াকড়ি বক্তব্য কার্যত আমলে নেননি সম্ভাব্য প্রার্থীরা। একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় প্রতিটি আসনে উন্নয়ন প্রচার-প্রচারণা বাদ রেখে নিজেদের বাহাদুরি প্রকাশে ব্যস্ত প্রার্থীরা। অন্তত দেড় শতাধিক আসনে এমন অবস্থা বিরাজমান। বর্তমান সাংসদসহ আ.লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী পরস্পরবিরোধী রাজনীতি করছেন। নিজের বলয় ভারী করতে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের লোকজন আ.লীগে ভেড়াচ্ছেন। অনেক জেলায় স্থানীয় সাংসদের সাথে দলীয় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রের বিরোধ চলেই আসছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশ থাকার পরও এ বিরোধ নিরসন হয়নি। গত ৩ মাসে ময়মনসিংহ, নওগাঁ ও সিলেটসহ একাধিক স্থানে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সংঘর্ষসহ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত আগস্ট মাসজুড়েই নির্বাচনি আসনগুলোতে আ,লীগের প্রকাশ্যে বিরোধ লক্ষ্য করা যায়। অন্তত ২০টির মতো জেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলাদাভাবেই কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে সাধারণ নেতাকর্মীরা পড়েন বিপাকে। শরীয়তপুর জেলা আ.লীগের নেতা মোহাম্মদ আলী মৃধা জানান, শরীয়তপুর জেলা শহরে দুটি গ্রুপের দাপটে সাধারণ কর্মীরা অসহায়। দুই গ্রুপের ঠেলাঠেলিতে আমরা আছি বিপদে। এক গ্রুপের অনুষ্ঠানে গেলে অন্য গ্রুপের কাছে কৈফিয়ত দিতে হয়। এদিকে, দলীয় কোন্দল এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের অপতৎপরতা নিরসনে জেলা শহরে নামছে আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতার। এরই অংশ হিসেবে আজ রেলযোগে উত্তরবঙ্গ সফর করবেন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সকাল ৮টায় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নীলসাগর আন্তঃনগর রেলযোগে নীলফামারী অভিমুখে কর্মসূচি শুরু হবে। যাত্রাপথে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার অন্তর্ভুক্ত রেলস্টেশনগুলোতে পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখবেন তিনি। উত্তরবঙ্গ সফরের পর জেলাভিত্তিক সাংগঠনিক সফর ঘোষণা করা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন- চা দোকানে বসে গ্রুপ মিটিং করে দলের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে প্রচারণা করে। এটা হওয়ার কথা ছিলো বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে। এসব আত্মঘাতী প্রচারণার চেয়ে আর কিছু হতে পারে না। তিনি বলেন, অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে কেউ যদি মনে করেন এমপি হওয়ার পথ সুগম হবে, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। -ডেস্ক