(দিনাজপুর২৪.কম) জেলা পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ঋণ সহায়তা দিতে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি নারী উদ্যোক্তাসহ এসএমই উদ্যোক্তাদেরকে জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের বিষয়টি তদারকি করবে।

গতকাল মন্ত্রিপরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত যৌথ অধিবেশনে শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন। এ সময় তিনি খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বিশেষ অতিথি ছিলেন। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংসসার প্রধান, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরা উপসি’ত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন ইতোমধ্যে ঔপনিবেশিক শাসকের চরিত্র পাল্টিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে জনগণের সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সরকার ও প্রশাসন একসাথে কাজ করলে দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

ইতোমধ্যে দেশের জনগণ এর সুফল পেয়েছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১, টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট ২০৩০ এবং ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি পরামর্শ দেন। তিনি জেলা পর্যায়ে কর্মরত প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রশংসা করেন।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী শাক-সিজ, ফলমূলসহ খাদ্যপণ্যের মান ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপসি’তি নির্ণয়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কৃষক ও উৎপাদনকারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সর্বো”চ সজাগ থাকতে হবে।

তিনি খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেন। লবণচাষিরা যাতে উৎপাদিত লবণের উপযুক্ত মূল্য পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহবান জানান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে পরিকল্পিত শিল্পায়নের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

এ লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে বিসিক শিল্পনগরি ও শিল্পপার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এসব শিল্পনগরী ও পার্কে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সকল পরিষেবা ও নীতি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পরিকল্পিত ও টেকসই শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে ভবিষ্যতে এ ধরণের নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব দেশের বিসিক শিল্পনগরিগুলোতে এগ্রো-প্রসেসিং ও ফিস-প্রসেসিং শিল্প স্থাপন স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে জেলা প্রশাসকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

শিল্প সচিব বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত গাড়ি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জমাদি দরপত্র ছাড়া সরাসরি ক্রয়ের বিষয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরগুলোকে অবহিত করতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান। -ডেস্ক