(দিনাজপুর২৪.কম) বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ একটি ফাঁকা প্রতিশ্রুতির ফাঁপানো রঙিন বেলুন। এই বেলুন অচিরেই চুপসে যাবে। জাতির সঙ্গে একটি তামাশা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, পরের মেধাস্বত্ব চুরি করা একটি নৈতিক অপরাধ। এটা এক ধরনের পলিটিক্যাল ডিজঅনেস্টি। একটি রাজনৈতিক দল কতটুকু দেউলিয়া হলে অপর একটি রাজনৈতিক দলের দেয়া আইডিয়া এবং চিন্তা নির্লজ্জভাবে চুরি করতে পারে। তিনি  বলেন, বিএনপি ইমিটেট করতে পারে কিন্তু ইনোভেট করতে পারে না। খালেদা জিয়ার এই ভিশন-২০৩০ একটি মেধাহীন, অন্তঃসারশূন্য, দ্বিচারিতাপূর্ণ ও জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রলাপ ছাড়া কিছুই নয়। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি’র ভিশন হচ্ছে হাওয়া ভবন বানিয়ে লুটপাট, দুর্নীতি আর এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার ভিশন। ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্য তার দলের অজ্ঞতাকে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে। তিনি অনেক বিষয় উপস্থাপন করেছেন যেগুলো ইতিমধ্যেই জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। তাদের কাছে সততার বুলি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কথা শ্রবণ জাতির জন্য খুবই অপমানজনক। কারণ তাদের নেতা জিয়াই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে বিচারহীনতার নজির স্থাপন করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত চেতনা ও মূল্যবোধকে জলাঞ্জলি দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের চরিত্র পরিবর্তন করেছিল। আজকে তারা ঠিক একই কায়দায় বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চায়। তিনি বলেন,বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ভারত নয়; ভৌগোলিক আয়তনের দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ একটি ছোট রাষ্ট্র। এখানে কোনো প্রদেশ নেই যে, এখানে একটি ফেডারেল গভর্মেন্ট কার্যকর আছে। এটা স্বয়ং বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও মতবিরোধ হয়েছে যা আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আজকে খালেদা জিয়া দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট দাবির মাধ্যমে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে চায়। আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা সত্ত্বেও তিনি এ ধরনের ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে কাদের খুশি করতে চান?  উনি কী করে রাষ্ট্রপতিকে সম্মান দিবেন? ক্ষমতায় থাকতে তো তিনি তার দলের রাষ্ট্রপতিকে বিনা কারণে অপসারণ করেছিলেন। দেশবাসী ভুলে যায়নি যে, বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী জীবন বাঁচাতে মহাখালীর রেললাইন ধরে পালিয়ে ছিলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, তার কথায় মনে হয় তিনি রাষ্ট্রপতি আর তার দুর্নীতিবাজ পুত্র তারেককে প্রধানমন্ত্রী বানাতে চান!  তিনি সংসদকে কার্যকর করার কথা বলেছেন, অথচ তিনি তো বিরোধীদলীয় নেতা থাকতে মাত্র ১০ দিন সংসদে গিয়েছিলেন। তার মুখে সংসদ কার্যকরের কথা মানায় না। তিনি বরাবরের ন্যায় এবারও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন। তিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে আছেন এবং পক্ষেই থাকবেন। উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই তারা রাজনীতি করবে। তাদের ভিশন যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার ভিশন, সন্ত্রাসবাদ কায়েমের ভিশন, দেশ বিক্রির ভিশন। ওবায়দুল কাদের বলেন, পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিএনপি নেত্রী মায়াকান্না করেছেন।  আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই- আপনি তথাকথিত অবরোধের জন্য আপনার দলের নেতাকর্মীরা যখন ২৮ জন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন তখন আপনার ভিশন কোথায় ছিল? আপনি তো, ২০১৩  থেকে ২০১৫ সালের সময় অবরোধের নামে বোমা মেরে মানুষ ও পুলিশ হত্যা, সম্পদহানিসহ যেসব নাশকতা, নৃশংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। বোমায় দগ্ধদের এবং নিহতদের পরিবারের কাউকে সমবেদনা জানানো দূরে থাক, কোনো ধরনের শোক প্রস্তাবেও তাদের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, বিএনপির ইতিহাস নেতিবাচক রাজনীতির ইতিহাস; হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির স্রষ্টা বিএনপি। তাদের আন্দোলন করার মতো শক্তিমত্তা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের পদতলে দলিত হয়ে গেছে। ভিশন-২০৩০ সাল পর্যন্ত পৌঁছার পথ তাদের জন্য খোলা নেই। বেগম জিয়া ‘ভিশন-২০৩০’ বলে যে কর্মপরিকল্পনার কথা বলেছেন এসবের অনেক কিছুই আওয়ামী লীগের দেয়া ‘ভিশন-২০২১’-এ রয়েছে। বিএনপি’র ভিশন যেমনই হোক এতে কোনো নতুনত্ব নেই। জেনারেল জিয়া সৃষ্ট কারফিউ গণতন্ত্রের ধারক, প্রতিহিংসার নেশায় উন্মত্ত হয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টা, ইনডেমনিটি আইন করে জাতির পিতা হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করা এই বিএনপির মুখে কোনো ধরনের ভিশনের কথা বিশ্বাস করার মতো বোকামি বাংলাদেশের জনগণ আর কোনোদিন করবে না। ওবায়দুল কাদের বলেন, ইতিহাস বলে এ দেশের জনগণকে স্বপ্ন দেখিয়েছে ভিশনারি আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ স্বপ্ন দেখিয়ে জাতিকে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ দিয়েছে। সংবিধান দিয়েছে। পঁচাত্তরের পর বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে এ জাতির ভাতের এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে আওয়ামী লীগ। আর অন্যরা সব জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এখনো তাই হচ্ছে। দেশকে মধ্যম আয়ে নেয়ার স্বপ্ন ‘ভিশন-২০২১’ দেখিয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে দেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। প্রবৃদ্ধির এ ধারায় শিগগিরই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো। এ জাতিকে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশ আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে, ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করবো ইন্‌শাআল্লাহ। এদিকে বিএনপির ভিশন-২০৩০ জনগণের সঙ্গে ধোঁকা ও ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ ঘোষণার পর মানবজমিনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮-এর আগেই ভিশন ২০২১ ঘোষণা করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ভিশন ২০৪১ ঘোষণা করেছে। ভিশন ২০২১ ঘোষণার পর প্রায় সোয়া আট বছর কেটে গেছে। এই সময়ের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া জ্বালাও, পোড়াও, মানুষের ওপর পেট্রোল নিক্ষেপ করা, মানুষকে অবরুদ্ধ করার মতো রাজনীতির পথ অনুসরণ করেছেন। এ ধরনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির পথে তিনি হেঁটেছেন। এটা করে তিনি জনবিচ্ছিন্ন হয়েছেন। তাই এখন হঠাৎ উনার মনে পড়েছে একটা ভিশন ঘোষণা করা উচিত। যেহেতু আওয়ামী লীগ করেছে তাই উনাকেও করতে হবে।  ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তার ভিশন কি পেট্রলবোমা বা সন্ত্রাস এই রাজনীতি অনুসরণ করে করবেন? বেগম খালেদা জিয়া তার ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে সরে এসেছেন কিনা সেটাই তো আগে জনগণের কাছে পরিষ্কার করা উচিত। অতীতেও তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তবে অতীতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে আর পরে বলা কথার মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ভিশন ২০২১ প্রায় বাস্তবায়ন করে ফেলেছে। এটা দেখে বেগম খালেদা জিয়া তার ভিশন ঘোষণা করে জনগণের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আসলে তার পুরো ঘোষণাই ধাপ্পাবাজি। -ডেস্ক