(দিনাজপুর২৪.কম) বিভিন্ন মহল থেকে প্রবল চাপের মুখে পড়ে অধিকাংশ পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটের উপর থেকে নিষেধা়জ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। তবে যে সমস্ত সাইটে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি দেখানো হয়, সেগুলির ক্ষেত্রে বহাল থাকছে নিষেধাজ্ঞা। ৩১ জুলাই টেলি-যোগাযোগ দফতরের নির্দেশমতো ৮৫৭টি পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট ব্লক করে দিয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি (আইএসপি)। ‘ব্লকিং’-এর আওতায় এসেছিল অন্যান্য কিছু সাইটও। যেমন, বিভিন্ন ডেটিং সাইট বা প্রাপ্তবয়স্ক জোক্স সাইট। মানুষের নৈতিক চেতনায় আঘাত লাগছে এই কারণ দেখিয়ে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। সরকারি এই নির্দেশে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধ করে সরকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে এমন দাবিতে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শুরু হয় বিতর্ক। আরও প্রশ্ন ওঠে, সব ধরনের পর্নোগ্রাফি সাইট ব্লক করার এই সিদ্ধান্ত আদৌ বাস্তবসম্মত কি না। তার থেকে বরং শুধু  চাইল্ড পর্নোগ্রাফি সাইট ব্লক করার চেষ্টা করা হলে কাজে দেবে, মত প্রকাশ করেন ওয়েবসাইট বিশেষজ্ঞেরা।
এই সব সমালোচনার মুখে আজ তড়িঘড়ি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকেন টেলিকমমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। বৈঠকে ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি সচিব আর এস শর্মা এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল পিঙ্কি আনন্দ। বৈঠক শেষে টেলিকমমন্ত্রী জানান, যে সব সাইটে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নেই, অবিলম্বে সেগুলির উপর থেকে ‘ব্লকিং’ তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে আইএসপিগুলিকে। সুপ্রিম কোর্টও বলেছিল, সব ধরনের পর্নোগ্রাফি সাইট ব্লক করে দেওয়া ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপেরই নামান্তর। তবে আইএসপিগুলি সেই নির্দেশ ইতিমধ্যেই কার্যকর করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পর্নো সাইট খুলছে না বলে খবর।
কিন্তু ‘চাইল্ড’ পর্নোগ্রাফিকে যে কোনও ভাবেই মদত দেওয়া উচিত নয়, সে বিষয়ে একমত সব পক্ষই। কাকে বলে ‘চাইল্ড’ পর্নোগ্রাফি? রাষ্ট্রপুঞ্জের নির্দেশিকা বলছে, যে ধরনের পর্নোগ্রাফিতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার করা হয়, সেটাই চাইল্ড পর্নোগ্রাফি। অনেক সময়ে বয়ঃসন্ধি হয়নি, এমন শিশুদের ব্যবহার করা হলেও সাধারণত চাইল্ড পর্নোগ্রাফিতে ব্যবহার করা হয় টিন-এজারদেরই। বিভিন্ন দেশের মতো ভারতও এই নির্দেশিকা মেনে চলে।
তবু রমরমিয়ে চলছিল বহু চাইল্ড পর্নোগ্রাফি সাইট। সেই সব সাইট ব্লক করে রাখতেই ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে আজ ফের নির্দেশ দিল কেন্দ্র। টেলি-যোগাযোগ মন্ত্রকের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যে সমস্ত সাইটে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি দেখানো হয়, ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে সেগুলি বন্ধ রাখারই নির্দেশ দিচ্ছে সরকার।’
টেলি-যোগাযোগ দফতর সূত্রের খবর, বাকি সব পর্নোগ্রাফি সাইটের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এই যে সিদ্ধান্ত, তা সাময়িক। সূত্রের খবর, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ১০ অগস্টের পরে। সেই সময়েই সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার ফের শুনানি রয়েছে। টেলিকমমন্ত্রীও বলেন, ‘পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে তালিবানি বলা হয়েছিল। সেই অভিযোগকে ঘৃণার সঙ্গে খারিজ করছি।’ তাঁর আরও দাবি, ‘আমাদের সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে। আমরা চাই, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ুক। বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ যে বাক্ স্বাধীনতা প্রকাশ করে, তাকেও সম্মান করে এই সরকার।’
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা। -ডেস্ক