(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকে যা দিয়েছে তা সারা জীবন মনে রাখবে। প্রতিদিনের বোমাবাজি গুলি থেকে আমরা তাদের শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি। এটা তাদের মনে রাখতে হবে।’ বুধবার (৩০ মে) বিকাল চারটায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকা ‘বাংলাদেশ ভারতের কাছে প্রতিদান চায়’ শীর্ষক প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ‘আপনি কোন প্রতিদান চেয়েছেন কিনা? চাইলে কোনও আশ্বাস পেয়েছেন কিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনও প্রতিদান চাই না। প্রতিদানের কী আছে? আর কারও কাছে পাওয়ার অভ্যাস আমার কম। দেওয়ার অভ্যাস বেশি।’ প্রধানমন্ত্রী বললেন, তিস্তা নিযে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন আছে, তারা আলোচনা করছে। ‘দ্বিপাক্ষিক সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে যেখানে আমি গিয়েছিলাম বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করতে ও কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিতে।’

তিস্তা চুক্তি নিয়ে নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা কথা দিয়েছে, কথা যখন দিয়েছে অপেক্ষা করুন।’বর্তমান সরকারের আমলে তিস্তা চুক্তি করার বিষয়ে মোদির আশ্বাসে আস্থা রাখছেন কি না-এমন প্রশ্নও ছিল সংবাদ সম্মেলনে।জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কারও ওপর কোনো ভরসা করে চলি না। আমার পানির ব্যবস্থা আমাকেই করতে হবে।’‘আমি নদীর ড্রেজিং করছি, জলাধার তৈরি করছি। পানি যেন আপতকালীন সময়ের জন্য থাকে থাকে তার জন্য ব্যবস্থা করছি।’

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতার বিকল্প প্রস্তাব ভারত সরকার বিবেচনা করছে। এই বিকল্প প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য কি না-এমন প্রশ্নও ছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
জবাবে আসে, ‘সব কথা এখন জানার দরকার নেই। এটা ভারতের বিষয়। সেটা তাদের কাছে জানতে চান। আমার কাছে নয়।’

তিস্তা চুক্তি করতে না পারা নিয়ে বিএনপির সমালোচনা বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে তারা তিস্তার পানি পানি করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে। খালেদা জিয়া যখন ভারতে গেলে, ফিরে এসে কী বলেছিলেন তা মনে আছে? তিনি বলেছিলেন, ‘ও গঙ্গার পানিচুক্তি? আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।’ ‘বিএনপির নেতাদের কি মনে আছে ওনাদের নেত্রী গঙ্গার পানি চাইতে ভুলে গিয়েছিলেন?’

উল্লেখ্য, গত ২৫ ও ২৬ মে পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন এবং পরদিন চুরুলিয়ায় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনে যোগ দিয়ে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি পান প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফর নিয়ে বুধবার (৩০মে)বিকালে গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী। এখানে গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। -ডেস্ক