(দিনাজপুর২৪.কম) ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। দলটির সংসদীয় রাজনীতিতে সাধারণ পরিবারতান্ত্রিক ধারা দেখা যায়। দাদা, বাবা কিংবা উত্তরসূরিদের বদৌলতে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দিতে দেখা যায়।

বর্তমান সংসদেও শুধু পারিবারিক কারণে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন, এমন এমপির সংখ্যা কম নয়। রাজনীতিতে প্রবীণ এবং ত্যাগী হয়েও ওই আসনের এমপি পরিবারের বেড়াজাল পেরিয়ে সংসদে আসতে পারেন না অসংখ্য নেতা।

সে ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে দলটি। আসন্ন পাঁচটি সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে ঘোষিত তিনটির দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন এবং সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচন বিশ্লেষণে এমনটাই ফুটে উঠেছে।

গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বেশকিছু আসনে মূল্যায়িত হয়েছেন মাঠের ত্যাগী নেতারা, মনোনয়ন বঞ্চিত হন একাধিকবারের সাংসদরাও।

তবে দলটির শীর্ষনেতারা বলছেন, দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে কোনো উত্তরসূরি দেখা হয় না, যোগ্যতা বিবেচনায় এনেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়।

রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার ডেমরা-যাত্রাবাড়ী নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ আসন থেকে চারবার এমপি হয়েছেন প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্যা। গোটা নির্বাচনি এলাকায় রয়েছে মোল্যা পরিবারের আধিক্য।

দীর্ঘ ওই সময়ে আসনটি থেকে এমপি হওয়ার সুযোগ পাননি অন্য কেউ। বাবার চেয়ারের উত্তরাধিকার আর প্রচলিত ধারায় আসনটি থেকে মনোনয়ন চান হাবিবুর রহমান মোল্লার ছেলে জাহিদুল ইসলাম মোল্লা সজল।

কিন্তু দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। পাবনা-৪ আসনে পাঁচবার এমপি হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলু। আসনটির রাজনীতিতে তিনিই ছিলেন অধিকর্তা। অনেক ত্যাগী নেতা থাকলেও এমপি বনে যেতে পারেননি কেউ।

আসন্ন উপ-নির্বাচন ঘিরে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, জামাতাসহ পরিবারের মোট আটজন। কিন্তু আসনটিতে ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাসকে মনোনয়ন দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

নওগাঁ-৬ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন রাণীনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল। এই আসনে পরপর তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত ইসরাফিল আলম। তার স্ত্রী পারভীন সুলতানা বিউটি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

ঢাকা-১৮ আসনে দলীয় মনোনয়নে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত অ্যাড. সাহারা খাতুন। এ আসনটিতেও উপ-নির্বাচনে মাঠের এক রাজনীতিবিদকে দলীয় প্রার্থী করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের মনোনয়ন পেতে পারেন প্রয়াত সাংসদ মোহাম্মদ নাসিমের পরিবার থেকেই।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত পাঁচটি আসনের উপ-নির্বাচনে বগুড়া-১ ছাড়া বাকি চারটিতেই প্রয়াত এমপি পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

এর মধ্যে যশোর-৬ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হয়েছেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন প্রয়াত এমপি ইশমত আরা সাদেকের কন্যা নওরীন সাদেক।

গাইবান্ধা-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি। প্রয়াত এমপি ইউনুস আলী সরকারের ছেলে ড. ফয়সল ইউনুস মনোনয়ন চেয়ে পাননি। বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে এমপি হয়েছেন আমিরুল আলম মিলন।

প্রয়াত সাংসদ ডা. মোজাম্মেল হোসেনের পুত্রবধূ ইসমত আরা শিরিন চৌধুরী মনোনয়ন চেয়ে পাননি। ঢাকা-১০ আসনের এমপি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে নির্বাচন করার কারণে পদত্যাগ করেছিলেন। এই আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি বলেন, আমরা কোনো কিছু থেকেই বেরিয়ে আসিনি। কোনো কিছুতে ঢুকিও না। আওয়ামী লীগের এমপি মারা গেলে তার পরিবারে দেয়া হয়, এটা সত্য নয়। আমাদের মনোনয়ন দেয়া হয় প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, জনপ্রিয়তা, যোগ্যতা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায়। দল যে দায়িত্ব দেবে সে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা আছে কী না। একই সাথে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ আছে কী না। এসব বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই মনোনয়ন দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় এমন হয়েছে, দেখা গেছে একজন এমপি মারা যাওয়ার পর ওই নির্বাচনি এলাকায় তার স্ত্রী বা সন্তান বেশি জনপ্রিয়। দলের নেতাকর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক। তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে। এমপি মারা গেছেন, তার আত্মীয় হিসেবে দেয়া হয়নি। আমরা দেখেছি কে যোগ্য, তাকে দেয়া হয়েছে। -সূত্র : আ.সংবাদ