(দিনাজপুর২৪.কম) আকরাম খানের পর জাতীয় দলে খেলার সুযোগ আসে তার ভাতিজা নাফিস ইকবালের। তবে প্রতিভাবান এই ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার খুব একটা লম্বা হয়নি। জাতীয় দলের হয়ে ১১ টেস্ট আর ১৬ ওয়ানডে খেলেই থেমেছেন এই ওপেনার। ছেড়ে দিয়েছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও। অবশ্য খেলা ছাড়লেও এখনো আছেন মাঠে। বিপিএল, ঢাকা লীগের বিভিন্ন দলে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৩৪ বছর বয়সী নাফিস। অন্যদিকে তার ছোট ভাই তামিম ইকবাল টাইগারদের সেরা ওপেনার। বর্তমানে তিনি ওয়ানডে অধিনায়কও।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের ক্রিকেটে খান পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। এবার তাদের দেখা যাচ্ছে এক নতুন ভূমিকায়।

করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তারা। চট্টগ্রামের সচ্ছল ক্রিকেটারদের নিয়ে নাফিস ফান্ড গড়েছেন। তা দিয়ে স্থানীয় টেম্পো ড্রাইভারদের সাহায্য করেছেন। এছাড়াও নিজেদের এলাকায় দরিদ্র মানুষদের জন্য কিছু না কিছু করেই যাচ্ছেন। তবে তামিম লড়াই করে যাচ্ছেন গোটা দেশের জন্য। নারায়ণগঞ্জের করোনা দুর্গত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তামিম। ৯১ জন অসচ্ছল ক্রীড়াবিদকে দিয়েছেন আর্থিক সহযোগিতা। এমন অনেক কিছুই করছেন কড়া গোপনীয়তায়। এসব নিয়ে নাফিস বলেন, ‘আসলে আমরা এসব কাজ গোপন রাখতে চাইছি। আমরা চাইছি না এসব কেউ জানুক। আমাদের মধ্যে তামিম গোপনে অনেক কিছুই করছে। সংবাদমাধ্যমে বিষয়গুলো চলে আসলেও ও (তামিম ) চায়নি এগুলো প্রকাশ হোক। শুধু আমি নই, গোটা খান পরিবার ওকে নিয়ে গর্বিত।’ আপন দু’ভাই হলেও তাদের মধ্যে সব কিছুতেই মিল-অমিল আছে। কিন্তু বড় ভাই নাফিস দু’জনে অমিল যে কোথায়, সেটি খুঁজে বের করতে পারলেন না। তবে দুটি জায়গায় ছোট ভাইকে এগিয়ে রাখলেন নাফিস ইকবাল। তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের যে কোথায় কোথায় মিল-অমিল সেটি আমি ভেবেও বের করতে পারবো না। হয়তো আমাদের মা বলতে পারবেন। তবে আমি তামিমকে দুটি জায়গায় এগিয়ে রাখবো। প্রথমে তাকে মানুষ হিসেবে এক নম্বরে রাখবো। সে একজন সন্তান, ভাই, পিতা হিসেবেও অসাধারণ। যা নিয়ে আমরা গোটা পরিবার গর্ববোধ করি। দ্বিতীয়ত, ক্রিকেটার হিসেবে সে আমার চেয়ে অনেক অনেক ভালো। ওর ক্রিকেট সেন্সটাই অন্যরকম। ও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে ক্রিকেটার তামিমের চেয়ে মানুষ তামিকেই আমি বেশি এগিয়ে রাখবো। এ বিষয় দুটিতেই আমি ওকে আমার চেয়ে আলাদা রাখতে চাই।’

মাঠে ক্রিকেট নেই এক মাসের বেশি সময়। তবে নাফিস এই লকডাউনের সময়টা বেশ উপভোগ করছেন। বিশেষ করে গোটা পরিবার এখন এক জায়গায়। তাই সময় তার কখন কেটে যাচ্ছে, বুঝতেই পারছে না তারা। নাফিস বলেন, ‘আমি এমনিতে ঘর থেকে খুব একটা বের হই না। আপনারা জানেন যে আমরা অনেক বড় পরিবার। সবাই একই সঙ্গে থাকি। এখানে আমরা ছাড়াও চাচাতো ভাইবোনরা আছে। সবাই মিলে সময় কাটাচ্ছি। রোজা এসেছে, সবাই একসঙ্গে বাসায় জামাত নামাজ পড়ি, রোজা রাখি। পরিবারকে এমন সময় দেয়াটা কঠিন ছিল। এখন করোনা ভাইরাসের কারণে সেই সুযোটা অনেক বেশি হয়েছে।’ এছাড়াও মাঠের ক্রিকেট নিয়ে নাফিস বলেন, ‘এটা সময় পরিস্থিতি ভালো হবে। মাঠে খেলা শুরু হবে। বিশেষ করে আমি চাইছি ঢাকা লীগটা মাঠে গড়াক। এতে অনেক ক্রিকেটারেরই উপকার হবে। দোয়া করি দেশ দ্রুতই স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে পাক।’ -ডেস্ক