(দিনাজপুর২৪.কম) মৌলভীবাজার শহরের বড়হাটে তিন দিন ধরে ঘিরে রাখা জঙ্গি আস্তানায় চূড়ান্ত অভিযান চলাকালে মুহুর্মুহু গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বেলা ১১টার দিকে একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে। পরে ১২ টা থেকে টানা আধা ঘন্টা গুলির আওয়াজ শোনা যায়। ওইসময় আরও তিন দফা বিস্ফোরণ ঘটে। দুপুর একটার দিকে অভিযানস্থল থেকে আহত এক পুলিশ সদস্যকে বের করে আনা হয়েছে। আহত কাওসার মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার কনস্টেবল। তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কাওসারের গলায় বোমার স্পিøন্টার লেগেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে সোয়াট ও বোমা নিস্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কিছু সময় পর অভিযান শুরু হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে  এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’।
স্থানীয়রা জানান, ৯টা ৫০ মিনিট থেকে ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। অভিযান শুরুর আগে আস্তানার আশপাশের লোকজনকে সরানোর মাইকিং করছে পুলিশ। স্থানীয়দের দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গণমাধ্যমকর্মীরা অবস্থান করছেন। অভিযানকে কেন্দ্র ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সোয়াট সদস্যরা আসার আগে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসানও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযানের সময় উৎসুক জনতা যাতে অভিযানস্থলে ভিড় করতে না পারে- সে বিষয়টি সকাল থেকেই তদারক করছেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. শাহজালাল।

এর আগে রাতে বড়হাট আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসার গলিতে দোতলা ওই বাড়ির বিভিন্ন দিকে রেকি করে অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। ভোর থেকে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদেরও তৎপর দেখা যায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঘেরাওয়ের মধ্যে রাতে ওই বাড়ির দিক থেকে থেমে থেমে গুলির শব্দ আসে। এরপর সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ গুলি চলে।

বড়হাটের এই বাড়িটির সঙ্গে সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুরে একতলা টিনশেড বাড়ি গত বুধবার ভোরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে ফেলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। সোয়াট সদস্যরা পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় শুরু হয় ‘অপারেশন হিট ব্যাক’। সেই অভিযান শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে এক ব্রিফিংয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, বাড়ির ভেতরে সাত থেকে আটজনের ছিন্নভিন্ন দেহ পেয়েছেন তারা। নিহতরা নব্য জেএমবির সদস্য এবং তাদের মৃত্যু হয়েছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে। -ডেস্ক