(দিনাজপুর২৪.কম) উত্তোলনযোগ্য কয়লার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে।  মঙ্গলবার (৩১ মে) দুপুর থেকে বন্ধ হয়েছে কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়। ব্যবহৃত উৎপাদন যন্ত্রপাতি সরিয়ে ১২১৪ নম্বর ফেইসে স্থাপন করে পুনরায় উৎপাদনে যেতে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগবে বলে ধারনা করছে খনি কর্তৃপক্ষ।
খনি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে খনির ১২০৫ নম্বর কোল ফেইস থেকে কয়লা উৎপাদন শুরু হয়। এ ফেইস থেকে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উৎপাদন হয়েছে। ১২১৪ নম্বর ফেইসটিতে উত্তোলনযোগ্য কয়লার পরিমান ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন হতে পারে বলে ধারনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, এর আগে ১২০৫ কোল ফেইস থেকে পরীক্ষামূলক কয়লা উত্তোলন শুরু হয় ২০১৫ সালের জানুয়ারীতে। উৎপাদন শুরুর ১০-১১ দিনের মাথায় ১০ মে ওই ফেইসে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিক  বেড়ে গিয়ে জলাধারের সৃষ্টি হয় এবং কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়।
আন্ডারগ্রাউন্ড টপ কোল কেভিং পদ্ধতিতে কোল ফেইসের উপরের দিকের কয়লা বেশী কাটা পড়ে। খনির ভূ-গর্ভে কয়লা স্তরের উপরের অংশে কিছু কিছু জায়গায় বড় বড় পানির পকেট রয়েছে। কয়লা কাটতে গিয়ে পানির পকেট ভেঙ্গে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। সে সময় খনি ভূ-গর্ভে স্থাপিত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ১৩টি পাম্প ২৪ ঘন্টা চালু রেখে প্রতি ঘন্টায় প্রায় দুই হাজার ঘনমিটার পানি সারফেজে সরিয়ে ফেলেও পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রনে না আসায় পরবর্তীতে ১২০৫ নম্বর কোল ফেইসটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষনা করা হয়।
পরে ১২০৫ নম্বর ফেইসে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পর খনির উৎপাদন ও রক্ষনাবেক্ষণ ঠিকাদার সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়ামের এক্সপার্টরা চীন থেকে এসে ফেইসটি পরিদর্শন ও পরীক্ষা নিক্ষিরা করে যাবতীয় তথ্য নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভিন্ন প্রক্রিয়ায় পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রনে রেখে ওই ফেইস  থেকে আবার কয়লা উত্তোলন শুরু করে।
পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুজ্জামান জানান, খনির কয়লা উৎপাদন বন্ধের বিষয়টি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একটি ফেইসের কয়লা উত্তোলন শেষ হলে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিয়ে নতুন ফেইসে স্থাপনের জন্য এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে। এছাড়া এ সময়ে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ত্রুটিবিচ্যুতি ধরা পড়লে মেরামতের জন্য বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হয়।