মোঃ আফজাল হোসেন (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ ফুলবাড়ীর সাংবাদিকদের সঙ্গে বিমাতা স্বরূপ আচরণ করছেন। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ ফুলবাড়ীর সাংবাদিকদেরকে না ডেকে তাদের পক্ষের কিছু সাংবাদিককে ডেকে ভুড়ি ভোজ করান। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটি ফুলবাড়ী সংলগ্ন হলেও পার্বতীপুর থেকে কয়লা খনির দূরত্ব প্রায় ১৫ কি.মি.। কয়লা খনির প্রশাসনিক লোকজন ফুলবাড়ীতেই ব্যাংকিং, বাজার সহ যাবতীয় কার্যক্রম ফুলবাড়ীতেই করেন। ফুলবাড়ীতে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার ২০ থেকে ২২ জন সাংবাদিক থাকলেও তাদেরকে কোন কাজে খনি কর্তৃপক্ষ ডাকেন না। এমনকি খনি থেকে বেশ কিছু সাংবাদিক সুবিধা হাসিল করছে বলে জানা যায়। তাদেরকে খনির বিভিন্ন প্রকার কাজকর্মের টেন্ডারের বিজ্ঞপ্তিগুলি দেওয়া হয়। ফুলবাড়ীর সাংবাদিকদেরকে লোভ দেখানো ২ বা ১টি বিজ্ঞাপন দিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা হয়। এতে খনি কর্তৃপক্ষ ফুলবাড়ীর সাংবাদিকদের সঙ্গে বিমাতা স্বরূপ আচরণ করছেন। ফুলবাড়ীর সাংবাদিকেরা খনির বিভিন্ন প্রকার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সংবাদ পরিবেশন করেন। সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটিকে জন্মলগ্ন থেকে ফুলবাড়ী সাংবাদিকেরাই সব রকম সহযোগিতা করেন। অথচ আজকে তাদেরকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। তাদের কোন অনুষ্ঠান বা সরকারি কোন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ এলে কোন মিটিং হলে ফুলবাড়ীর সাংবাদিকদেরকে ডাকা হয় না। ডাকা হয় তাদের মনমত হাতে গণা কিছু সাংবাদিক। এদের মধ্যে কেউ কলেজের প্রভাষক, কেউ ঠিকাদার, কেউ ক্লাবের সভাপতি, কেউ ব্যবসায়ী আবার কেউবা ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। খনি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ফুলবাড়ীর সাংবাদিকদের সঙ্গে বিমাতা স্বরূপ আচরণ করায় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোপের সঞ্চায়ন হয়েছে। ফুলবাড়ীর সাংবাদিকের কোন বিষয়ে খনিতে দেখা করতে গেলে তাদেরকে গেটের নিরাপত্তা কর্মীরা যেতে বাধা সৃষ্টি করেন। তারা বলেন, খনি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া সাংবাদিকেরা ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। অথচ খনি এলাকার ভুই ফোড় রাজনৈতিক দলের নেতা, ঠিকাদারসহ নানা ধরনের লোকজন খনিতে প্রবেশ করছে। কিন্তু ফুলবাড়ীর সাংবাদিকদেরকে ঢুকতে বাধা সৃষ্টি করছে। এর কারণ খুজে দেখা যায়, ফুলবাড়ী এলাকায় খনিটি না হওয়ায় কোন সুযোগ সুবিধা ফুলবাড়ীর সাংবাদিকেরা পাবে না। পাবে কারা? পাশ্ববর্তী পার্বতীপুরের গুটি কয়েক সাংবাদিকেরা।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটি এখন পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছেন ৩ থেকে ৪ জন উচ্চ কর্মকর্তা। তারা যেভাবে খনিটিকে চালাচ্ছে সেভাবেই চলছে। এদের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশ হলে ঐ সাংবাদিকদেরকেই কালো তালিকায় লিপিবদ্ধ করেন। এ কারণে ফুলবাড়ীর সাংবাদিকেরা ভাল কাজ করলেও তারা ফুলবাড়ীর সাংবাদিকদেরকে পাত্তা না দিয়ে পার্বতীপুরের গুটি কয়েক সাংবাদিককে প্রাধান্য দিচ্ছেন। আর তারা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিগুলিও বেশীর ভাগ পেয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ীর সাংবাদিক মহল জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও পেট্রো বাংলার চেয়ারম্যানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।