(দিনাজপুর২৪.কম) বড়পুকরিয়া কয়লা খনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র যাদের জমি নিয়ে সরকার কয়লা উত্তোলন করে দেশে বিদ্যুৎ দিয়ে আলোকিত করছে। কিন্তু যারা জমির মালিক ছিলেন তারা চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমির মালিক জানান, তার জমির যে মূল্য তা সে পায়নি। এক প্রকার চাপের মুখে পানির দরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির জমিগুলো সরকার অধিগ্রহণ করেছে। কিন্তু আজ কয়লা চোরেরা হয়েছে লাভবান।
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে অধিগৃহিত জমির মালিকগন আজ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা চুরি ও তা কালোবাজারে বিক্রি করে অনেকেই আজ শিল্পপতি এবং ধণাঢ্য ব্যাক্তি হয়েছেন। সমাজে আজ তারা চিহ্নিত মহাজন রূপে খ্যাত। দুর্নীতির মাধ্যমে কয়লা বিক্রি করে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে প্রমাণিত করতে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলায়ও করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কয়লাখনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অধিগৃহিত জমির মালিক ও এলাকাবাসী কয়লা খনির এই দুর্নীতির সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’র জোর দাবী জানিয়ে বলেন, এখানে সুধু কয়লা চুরি হয়না, এর সাথে আছে কয়লাখনি কর্মকর্তাদের কমিশন বানিজ্য। খনিতে একটন কয়লার দাম ১৭ হাজার টাকা হলেও খোলা বাজারে এর দাম ২০ হাজার টাকা। ১০০ টন কয়লার ডিও মানে দুই লাখ টাকা। এই ভাবে কোটি কোটি টাকার কমিশন বানিজ্য হয় কয়লা খনিতে। প্রসঙ্গ ক্রমে কয়লা খনি থেকে এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা কিভাবে গায়েব হলো এই ঘটনা আজ এলাকাবাসীসহ দেশবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। যা জানানো কয়লাখনি কর্তৃপক্ষেরই দায়িত্ব। এটাকে কোন ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে উত্তোলকৃত কয়লার মধ্যে এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা ঘাটতি প্রকাশ পেয়েছে। কাগজ কলমে এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা থাকলেও, বাস্তবে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে কোন কয়লা নাই। এটা একটা শুভঙ্করের ফাঁকি। খনিতে কয়লা না থাকায়, কয়লার অভাবে গত ২২ জুলাই রাত ১০টা থেকে বন্ধ হয়ে যায় বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগওয়াড কয়লা ভিক্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলা (রংপুর বিভাগ) বিদ্যুৎ ঘাটতিতে পড়েছে।
এব্যাপারে সাবেক এম.এন.এ মরহুম নুরুল হুদা চৌধুরী’র পুত্র মোহাম্মদ আলী চৌধুরী জানান, আমি ও আমার অপর ভাইগন শওকত আলী চৌধুরী, লিয়াকত আলী চৌধুরী, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, আজিজুল ইসলাম চৌধুরী, মমতাজ হাসান চৌধুরী, মাহমুদ হাসান চৌধুরী ও আমিনুল ইসলাম চৌধুরী আমরা আট ভাইয়ের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের মজিদপুর ও ইউসুফপুর মৌজার প্রায় ৯০ একর জমি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের জন্য স্বল্পমূল্যে সরকার অধিগ্রহণ করে। এছাড়াও এলাকার যাদের জমি এই অধিগ্রহনের অন্তভূক্ত হয় তারা হচ্ছেন, ডা. মনছুরুর রহমান গং, আমিরউদ্দিন মন্ডল গংসহ অনেকেরই। যারা আজ জমি না থাকার কারনে অর্থাভাবে নিঃশ্ব হয়ে পড়েছে।
যানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির জন্য যাদের জমি স্বল্পমূল্যে সরকারী ভাবে অধিগ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন, আলহজ্ব মমতাজ উদ্দিন, মজিবর রহমান ও আইজুল ফকিরসহ এলাকাবাসীর। আরো যানা গেছে, এই জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে ন্যায্য মূল্য নির্ধারনের জন্য আদালতে মামলা করতে গিয়ে জমির মালিকগন জমির ন্যায্য মূল্যতো পাননিই উপরোন্ত তাদের প্রচুর পরিমানে অর্থ ব্যয় হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ২টি যাদের জমির উপর প্রতিষ্ঠিত তারাই আজ অর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও কেউ কেউ নিঃশ্ব। কিন্তু কয়লাখনি নির্মাণ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্র্যন্ত যাদেরকে নাম নিশান দেখা যায়নি তারাই কয়লাখনি কর্তৃপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে কোটি কোটি টাকার কয়লা চুরি করে আজ শিল্পপতি। একারনে কয়লা ব্যবসায়ীদেরকেও এই কয়লা চুরির মামলায় আসামীভুক্ত করতে জনগনের জোর দাবী।
জমি অধিগৃহিতকারীদেরকে দীর্ঘ আশ্বাস দিয়ে ্বলা হয়েছিল, এই প্রকল্প ২টি চালু হলে আপনাদের সন্তানেরা এখানে চাকুরী পাবে। কিন্তু বাস্তবে তাদেরকে কোন ভাবেই প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার সহয়তা করেনি। অপরদিকে জনগণ ভেবেছিলেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের বিদ্যুৎতের কষ্ট থাকবে না। সেই সাথে এলাকার ছেলে-মেয়েরা এই উভয় প্রকল্পে চাকুরী প্রাপ্ত হবে, কিন্তু তাদের আশায় গুড়ে বালি। উক্ত কয়লা খনির দুর্নীতির সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদাবী করে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।