(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একমাত্র সচল ইউনিটটি কয়লার অভাবে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার বিকালে তা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে রংপুর বিভাগের আট জেলায় লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাকিম সরকার জানান, কয়লার অভাবে মঙ্গলবার বিকাল তিনটা পাঁচ মিনিটে কেন্দ্রের একমাত্র সচল ইউনিটটি বন্ধ করে দেয়া হয়। তিনি জানান, আগামী মাসের ১০ থকে ১৫ তারিখের মধ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লা তাপবিদ্যুতের জন্য নতুন ফেস থেকে কয়লা উত্তোলনের পর সরবরাহের কথা রয়েছে। কয়লা সরবরাহ হলে তিনটি ইউনিটি চালু করা হবে। ঈদুল আজহায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট গত ২০ আগস্ট থেকে চালু করা হয়। কয়লার মজুদ শেষ হওয়ার কারণে আট দিনের মাথায় তা বন্ধ গেল। কয়লা গায়েবের ঘটনার পর গত ২২ জুলাই রাত ১০টা ২০ মিনিট থেকে কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে যায় দেশের একমাত্র তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। বড়পুকুরিয়ার তিনটি ইউনিটের মোট ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে চালু করা হয় ১২৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিটটি। কেন্দ্রটি চালু করতে প্রতিদিন এক হাজার ২০০ মেট্রিকটন কয়লা প্রয়োজন। রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যায় ৫০০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে এই জেলাগুলোতে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি লো-ভোল্টেজের সমস্যা দেখা দেবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম সরকার জানান, বড়পুকুরিয়া খনির ফেইজ উন্নয়নকালীন প্রাপ্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিকটন কয়লার সরবরাহ পাওয়ায় ২ নম্বর ইউনিটটি সাময়িকভাবে চালু করা হয়েছিল। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ কয়লা সরবরাহ করতে না পারায় মঙ্গলবার তা পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়লা পাওয়া সাপেক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এক লাখ মেট্রিকটন কয়লা আমদানি করা হচ্ছে। বড়পুকুরিয়া খনিতে উৎপাদনে যেকোনো সমস্যা মোকাবেলায় আপদকালীন মজুদ হিসেবে কয়লা বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।