-ছবি সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলায় নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে দুর্বৃত্তের হামলা ঘটনার তদন্তের জন্য ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান। কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ।

তিনি জানান, অতিরিক্ত সচিব ও স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক দীপক চক্রবর্তীকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির প্রতিনিধি, বিজিবি প্রতিনিধি, জেলা পুলিশের প্রতিনিধি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রতিনিধিদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
এদিকে বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় একনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার একদিন পর বাঘাইছড়ি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোৎ আবুল ফয়েজ,ও পুলিশ সুপার আলমগীর কবির সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তারা বাঘাইছড়ির ৯ কিলোমিটার এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলারস্থল নানা দিক ঘুরে দেখেন এবং স্তানীয় লোকজনের সাথে কথা বলেন। এই সময় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, এই জঘন্যতম ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান শুরু করবে। যে কোন সময় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু হবে বলে তিনি জানান।

রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, পাহাড়ে ভৌগোলিক অবস্থার কারণে নিছিদ্র নিরাপত্তা অসম্ভব তার পরেও যথেষ্ট নিরাপত্তা থাকা সত্বেও সন্ত্রাসীদের এই ধরনের হামলা উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিরীর সকল অবস্থার কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে না। তার পরও দুই একটি ঘটনা প্রতিরোধে আরো জোরদার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

এর পর তারা বাঘাইছড়ি থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ আহত রোগীদের দেখতে যান। জেলা প্রশাসন আহত সাতজনকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করেন।

এদিকে, নিহত ৭জনের মরদেহ খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়, সন্ধ্যায় নিহতদের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে লাশ দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় নির্বাচনী কাজ শেষ করে ফেরার পথে দুর্বৃত্তের হামলায় এ পর্যন্ত ৭ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে।

আওয়ামীলীগ সভাপতি সুরেশ কান্তি তংঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা

এদিকে রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ির হত্যাকান্ডের ঘটনার একদিন পর বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামীলী সভাপতি সুরেশ কান্তি তংঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকালে বিলাইছড়ি ফারুয়া এলাকার আলিক্ষিয়ংয়ে এই ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলা নির্বাচনী কার্যক্রম শেষ করে ফারুয়া ইউনিয়ন থেকে বোড যোগে বিলাইছড়িতে ফিরছিলেন।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনী কাজ শেষে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে ফারুয়ার আলিক্ষিয়ং এলাকা পৌছালে আগে থেকে উৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার বোট থামিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এসময় তার স্ত্রী ও সন্তান বোটে উপস্থিত ছিলেন। পরে সন্ত্রাসীরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

হত্যাকান্ডের ঘটনা নিশ্চিত করে বিলাইছড়ি ইউএনও আসিফ ইকবাল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর হয়েছে। উপজেলার সর্বত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে সকালে লাশ উদ্ধার করে দুপুরে লাশ ময়নাতন্তের জন্য রাঙ্গামাটিতে নিয়ে আসা হলে ময়নাতদন্তে শেষে তার পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়।

অন্যদিকে দুপুরে লাশ রাঙ্গামাটি নিয়ে আসা হলে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এতে করে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারা দ্রুত এইসব হত্যার ঘটনায় জড়িতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে এ হত্যাকান্ডের জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস)কে দায়ী করে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর বলেন, পাহাড়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করছে জনসংহতি সমিতি। অবিলম্বে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলে সমাবেশ থেকে হুশিয়ারী উচ্চার করেন তিনি।

এদিকে এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বুধবার বিক্ষোভ সমাবেশ করবে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগ।

তবে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নীলোৎপল খীসা ঘটনার সাথে জড়িতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, আমরা এ ধরণের অপরাজনীতি করি না। আওয়ামীলীগ উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। -ডেস্ক