(দিনাজপুর২৪.কম)উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পর ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গমের মান, অনিয়ম, দুর্নীতি বিষয়ে অনুসন্ধান করা-না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।মঙ্গলবার ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে মাসিক ব্রিফিংয়ে একথা জানান প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মো. শামসুল আরেফিন।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম নিম্নমানের উল্লেখ করে এরইমধ্যে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। এ নিয়ে হাইকোর্টের একটি আদেশ বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন গবেষণাগারে গম পরীক্ষাধীন রয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ এখনও শেষ হয়নি। আপিল বিভাগের রায় ও গুণগতমানের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি অনুসন্ধান করা-না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
 এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুদক পরিচালক নূর আহম্মদ, বেলাল হোসেন, উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।
 ব্রিফিংয়ে গত মে ও জুনে দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্ত ও বিচারিক কাজের তথ্য তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহাপরিচালক শামসুল আরেফিন।
 সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিচালক নূর আহম্মদ বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকে দুর্নীতি তদন্তাধীন রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের এমডি নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে আরও তথ্যবহুল অভিযোগ পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
 তিনি আরও জানান, সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগটি কমিশন পর্যালোচনা করে দেখছে। ওই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনাধীন।
 সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম প্রতিষ্ঠা নিয়ে অভিযোগটির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
 সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৫ এর খসড়ায় আদালতে চার্জশিট পেশের আগে কর্মচারীদের গ্রেফতার করা যাবে না- সংক্রান্ত ধারা সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বিষয়টি এখনও আইনে পরিণত হয়নি বলে এ নিয়ে মন্তব্য করা যাবে না।
 ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, হলমার্ক কেলেঙ্কারির নন ফান্ডেড অংশের অনুসন্ধানের কাজ চলছে জোরেশোরে।
 লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১০১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে ও ৬৭টি মামলার আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
 এ সময় আরও জানান হয়, জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩২৯টি অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। এর মধ্যে ২৫৪টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। এ সময়ে ১৮২টি মামলার অনুমোদন ও ২৮২টি চার্জশিট পেশের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।(ডেস্ক)