(দিনাজপুর২৪.কম) দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লাগামহীনভাবে ওঠানামাও করছে এর দাম। আইন অনুযায়ী, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দ্বারা এর দাম নির্ধারিত হওয়ার সুযোগ থাকলেও একচেটিয়াভাবে ব্যবসায়ীরাই নিয়ন্ত্রণ করছেন এলপি গ্যাসের বাজারদর। তবে বিইআরসি দ্বারা এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণের পক্ষে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মত থাকলেও মুক্ত বাজারের দোহাই দিয়ে বিপরীত অবস্থানে সংস্থাটি। এদিকে, চাহিদার বিপরীতে যেমন নেই পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং সংকট সবখানেই। তেমনি সেই সংকট সামাল দিতেই রান্নাবান্নার কাজে বাড়ছে এলপি গ্যাসের ব্যবহার। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন বাজারদর নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে নানা প্রশ্ন। বাজারের এ হাল দৃশ্যমান হলেও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা নীরব ভূমিকায় থেকে এলপি গ্যাসের বাজার আরও অধিক প্রতিযোগিতাপূর্ণ হওয়ার কথা বলছে। বিইআরসি এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়েই কেবল চুপচাপ রয়েছে তা নয়, এ সংস্থাটি শুরু থেকেই এলপি গ্যাসের নিয়মতান্ত্রিক বাজারজাতকরণের খুটিনাটি বিষয় নিয়েও রয়েছে নীরব ভূমিকায়। দেশে বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের কারণে বাসাবাড়িতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপি গ্যাসের ব্যবহারকে সরকার উৎসাহিত করলেও দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। আর এ সুযোগে এলপি গ্যাসের বাজার হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যবসায়ীদের মুনাফা অর্জনের সোপান। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভোক্তাস্বার্থ। এ অবস্থায় গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, এমনটিই মনে করছেন গ্রাহকসহ বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন অনুযায়ী, গ্যাস-বিদ্যুতের মতো পেট্রোলিয়ামপণ্য এলপিজির দামও নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে বিইআরসি। কিন্তু দিন দিন ব্যবহার বেড়ে চলা এই জ্বালানির বাজার এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা। এদিকে, দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে এলপি গ্যাস কোম্পানিগুলো বলছে, এতদিন তারা লোকসানে এলপি গ্যাস বিক্রি করত। লোকসান কমাতেই দামের কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে।এলপি গ্যাসের একাধিক কোম্পানীরই একই দাবি যে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এর দাম বাড়ানো হয়েছে। এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের বিপরীতে অতীতে লোকসান দিয়ে আসার কারণে এখন এটা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দর না বাড়িয়ে উপায় নেই। তার পরও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এখনো বিভিন্ন কোম্পানির লোকসান হবে বলে দাবি করে তারা বলছে তবে তাদের লোকসানের পরিমাণটা একটু কমে আসবে।একটি সূত্র জানায়, লাগামহীন এই বাজারের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বিইআরসিকে দিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কোনো আপত্তি না থাকলেও ভিন্ন মতে রয়েছে বিইআরসি কর্মকর্তারা। তবে লাগামহীন বাজারকেন্দ্রিক তাদের মধ্যকার দ্বিধার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি এখনো পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইনি সুযোগ থাকায় এলপিজির দাম অবশ্যই বিইআরসির মাধ্যমে নির্ধারণ হওয়া উচিত। বর্তমানে দেশে বছরে এলপিজির সরবরাহ হচ্ছে ৬ লাখ টনেরও বেশি। এ বিষয়টি অবশ্যই বিইআরসিকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।এলপিজি গ্যাসের বাজারদর লাগামহীনভাবে বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীরা, ব্যবসায়ীদের এমন ভূমিকায় বিইআরসির কোনো নির্দেশনা রয়েছে কিনা এবং বাজারে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে অবগত আছে কিনা জানতে চাইলে বিইআরসির পরিচালক (উপসচিব) রেজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি বিইআরসি অবগত রয়েছে। তবে এ নিয়ে বিইআরসি থেকে কোনো মুক্তবাজারে ব্যবসায়ীদের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এলপিজি গ্যাসের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিইআরসি এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তও নেয়নি বলে জানান তিনি। এলপিজি গ্যাসের বাজার আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশায় থাকা বিইআরসি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে আরও সময় লাগবে বলে জানান তিনি। সম্প্রতিই এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ খান গণমাধ্যমকে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে কোম্পানিগুলো এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি দাম কত বাড়তে পারে। আমরা যে কোম্পানিগুলোকে রেগুলেট করব, তার জন্য তো একটা নীতিমালা দরকার। কিন্তু এখন রেগুলেট করার মতো কোনো নীতিমালা নেই। -ডেস্ক