(দিনাজপুর২৪.কম) অতিবৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে রাজধানীতে দুমাস আগে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। সে বাড়তি দাম এখনও কমেনি, চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি। ঈদুল আযহার পর মুরগির দাম কিছুটা কমেছিল। গত সপ্তাহেও একই ধারা অব্যাহত ছিল। শক্রবারের বাজারে মুরগির দামে ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি মুরগির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। দাম না কমায় আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল। শুক্রবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী ও কারওয়ানবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকায়। লেয়ার মুরগি ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা, দেশি মুরগি প্রতিপিস ৪৫০ টাকা ও পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজিপ্রতি ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। কোরবানি ঈদের পর গত সপ্তাহ পর্যন্ত গরু ও খাসির মাংসের বাজার বন্ধ ছিল। এ সপ্তাহে গরুর মাংস কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫২০-৫৫০ টাকা। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়।

সব ধরনের সবজি আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। বেগুন কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০, শিম ১০০, হাইব্রিড টমেটো ১২০, শশা ৬০, চাল কুমড়া ৫০-৫৫, কচুর লতি ৬০-৬৫, পটল ৫০, ঢেঁড়স ৬০, ঝিঙ্গা ৬০, চিচিঙ্গা ৫৫-৬০, করলা ৬০, কাকরোল ৫৫, পেঁপে ৪০-৫০, কচুরমুখী ৬০ ও আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি ৩৫, বাঁধাকপি ৩০, লেবু হালিপ্রতি ২০-৪০, পালং শাক আঁটিপ্রতি ২০, লালশাক ২০, পুঁইশাক ৩০ এবং লাউশাক ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মহাখালী বাজারের সবজি বিক্রেতা মজিদ মিয়া আমার সংবাদকে বলেন, বেশি দামে কিনছি বলে বেশি দামেই বিক্রি করছি। দাম খুচরা বিক্রেতারা বাড়ায় না, পাইকারি বিক্রেতারাই বাড়ায়। বেশি দামে ক্রয় এবং আগের থেকে পথ খরচ বেশি হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে তিনি জানান।

বন্যা তো অনেক আগেই কমে গেছে তারপরও দাম বেশি কেন-? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন্যায় বেশি ভাগ সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে বলে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই দামও বেশি। মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজিপ্রতি ছোলা ৮৫, দেশি মুগ ডাল ১৩০, ভারতীয় মুগ ডাল ৯০, মাসকলাই ১২৫, দেশি মসুর ডাল ১২০, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, বিভিন্ন অজুহাতে গত কয়েক মাস ধরে বাড়তে থাকে চলের দাম। সর্বশেষ গত দুই সপ্তাহ আগে আবারও বাড়ে চালের দাম। তবে, চাল ২-৩ টাকা কমার কথা থাকলেও এখনও কমেনি। আগের সেই বাড়াতি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা ও পারিজা চাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৫১-৫২ টাকায়। মিনিকেট কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে (উন্নত মানের) ৬৪, মিনিকেট (সাধারণ মানের) ৬০, বি আর-২৮ ৫৮, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৭০, নাজিরশাইল (নরমাল) ৬০, হাস্কি ৫৬, পাইজাম চাল ৫৫, বাসমতি ৬৮, কাটারিভোগ ৭৬ এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজার আগের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি রুই মাছ ২৮০-৪০০, সরপুঁটি ৩৮০-৪৫০, কাতলা ৩৫০-৪০০, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০, সিলভার কার্প ২৫০-৩০০, চাষের কৈ ৩০০-৩৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতিকেজি ১৫০-২৫০, টেংরা ৬০০, মাগুর ৬০০-৮০০, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০, ৭০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশ ৬০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকায়। -ডেস্ক