(দিনাজপুর২৪.কম) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে। ঠিকানা বিহীন ও বেনামি হাতে লেখা এ চিঠি পাওয়ার পর তিনি অনিরাপদ বোধ করছেন।  চিঠিতে তুরিন আফরোজের প্রতি অশ্লীল মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করে লেখা হয়, ‘আনু মুহাম্মদ প্রভৃতির বিরুদ্ধে তুমি ২নং ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক করেছো। যাঁদেরকে তুমি আদালত অবমাননার শাস্তি দেয়ার জন্য এত কসরত করেছো তুমি তো তাদের একটা মরা…..যোগ্যও নও। যাঁদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এত চেষ্টা তাঁরা কারা? এদের মধ্যে যাঁরা আছেন তাঁরা দেশের সম্পদ। আনু বা জাফরুল্লাহর পায়ের ধূলার যোগ্যও তুমি না, তাই না?’

চিঠি পেয়ে রাজধানীর বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে থানায় গিয়ে এ জিডি করেন তুরিন আফরোজসহ কয়েকজন প্রসিকিউটর। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ভূঁইয়া মাহবুব খান জিডি নেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। জিডি নম্বর- ৫০২।

বুধবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল থেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে এ চিঠি পান তুরিন আফরোজ। প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে শিক্ষকতা করছেন তিনি। এরপর তিনি প্রসিকিউশন এবং ট্রাইব্যুনালকে এ বিষয়ে অবহিত করেন।

এ বিষয়ে তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, চিঠিতে আমার পেশাগত বিষয় ছাড়াও আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। চিঠির ভাষা এতোটাই অশালীন যে এটা সভ্য সমাজের ভাষা হতে পারে না।

তিনি বলেন, পেশাদারিত্বের চেয়েও একজন নারী হিসেবে আমাকে এ চিঠিতে আক্রমণ করা হয়েছে বেশি।

ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবমাননাকর বিবৃতি দেওয়ায় ট্রাইব্যুনাল-২ এর দণ্ডপ্রাপ্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া ২২ নাগরিকের কেউ এ চিঠি পাঠিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন তুরিন আফরোজ। তিনি বলেন, চিঠির বিষয়বস্তুতেও এটি উল্লেখ থাকায় তার এ ধারণা হচ্ছে।

১২ মে তুরিন আফরোজের নামে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠিটি পাঠানো হয়। এর আগেরদিন ১১ মে তিনি ২৩ নাগরিকের আদালত অবমাননার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রুল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন। তুরিন ওইদিন বলেন, এ বিবৃতির মাধ্যমে তারা (২৩ নাগরিক) ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বার্গম্যানের শাস্তির যৌক্তিকতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বিচারপতিদের কর্তৃত্বকেও ক্ষুন্ন করেছেন তারা। নাগরিকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তাই মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করে না। বিবৃতিদাতাদের উপযুক্ত শাস্তিও দাবি করেছিলেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

এ বিষয়ে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, বেনামি এ চিঠি পাওয়ার পর তুরিন আফরোজ অনিরাপদ বোধ করায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ বিষয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে আমরা আশা করি।(দি —–নাজপুর২৪ ডেস্ক)