(দিনাজপুর২৪.কম) অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সরকারী কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। তাদের বর্তমানে ১৬ হাজার টাকার নিচে বেতন পান না। ‘তবুও এখন যারা দুর্নীতি করে এটা তাদের অভ্যাস। লোভ বা স্বভাবের কারণে করে তারা এসব করে। মানুষের এই অনৈতিক অভ্যাস বা লোভ পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব। তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৯মার্চ) ‘বন্ধ হলে দুর্নীতি, উন্নয়নে আসবে গতি’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০১৮ এর এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী একথা বলেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে দুদক আয়োজিত পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের মাঝেও পুরস্কার বিতরণ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বাড়বে আর দুর্নীতি কমবে। ২০১৫ সালে বেতন বাড়ে, পরের বছর বেড়েছে ভাতাও। অর্থের এই জোগান বাড়ার পর দুর্নীতি কি কমেছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বলছে, না কমেনি। আর এই না কমার কথা প্রকারান্তরে স্বীকারও করে নিচ্ছেন উদ্যোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

অর্থমন্ত্রীর মতে, উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। এখন আর ‘অভাবের কারণে মানুষ মারা যাচ্চে না’ এমনটাই মনে করছেন সরকারদলীয় শীর্ষস্থানীয় এই নেতা।

মুহিত বলেন, ‘আমার শৈশব, কৈশর এমন কি যৌবনের প্রারম্ভে শুধু খাবারের অভাবে মানুষের মৃত্যু দেখেছি। কিন্তু অভাবের কারণে আজকে কোনো লোক মারা গেছে, এমন কোনো ঘটনা এখন শোনা যায় না। এখন আর বাংলাদেশে ঝুপরি ঘর দেখা যায় না। দেশের গ্রামগুলো এখন সিলভার রং ধারণ করেছে। গ্রামের এই দৃশ্য আমাকে বিমোহিত করে।’ দেশে ৬ লক্ষ পেশাদার ভিক্ষুক আছে জানিয়ে এদেরকে কোনো অবস্থাতেই পুনর্বাসন করা যাচ্ছে না বলে অসহায়তার কথাও জানান তিনি।

দুর্নীতি প্রতিরোধে এবং জাতীয় শুদ্ধাচার বিকাশে বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদি শুদ্ধাচার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল আমাদের আদর্শ। এটি বাস্তবায়ন করা সহজ বিষয় নয়।’

এক্ষেত্রে দুদক গৃহিত প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘কি উপায়ে এই শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠিত করা যায় এবং সমাজ থেকে দুর্নীতি দূরিভূত করা যায় দুদকের এ জাতীয় কর্মসূচি তারই প্রকাশ। আগামী কয়েক বছরে মধ্যেই হয়তো এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে, তখন দেশটি দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে- এ মন্তব্য করার সুযোগ থাকবে না। দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা করা ক্ষেত্র কমে আসবে, তখন কমিশনকে শুদ্ধাচার বিকাশে প্রচার-প্রচারণায় অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে।’  -ডেস্ক