(দিনাজপুর২৪.কম) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়ের কপি বৃহস্পতিবারও (১৫ ফেব্রুয়ারি) মেলেনি।দিনভর অপেক্ষার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের জানান, আজও রায়ের অনুলিপি পাওয়া যায়নি। আদালতের কর্মচারী তাকে বলেছেন, অনুলিপির অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। এখন তুলনা চলছে। কিন্তু তা শেষ না হওয়ায় অনুলিপি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আগামী রোববার রায়ের কপি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেদিনও না হলে সোমবার নিশ্চিত।

রায়ের কপি পেতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি আদালতে ৩ হাজার ফলিও (সরকারি যে কাগজে নকল দেওয়া হয়) জমা দেন তিনি। সানাউল্লাহ মিয়া জানান, রায়ের অনুলিপি না পাওয়ায় হাইকোর্টে খালেদা জামিন আবেদন করা যাচ্ছে না।

এর আগে খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, ‘ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, কপি তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। বুধবার বিকেল ৪টা নাগাদ তা আইনজীবীদের দেওয়া যাবে।’ কিন্তু গতকাল বিকেল পর্যন্ত রায়ের কপি তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় তা খালেদার আইনজীবীদের হাতে দিতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। তবে গতকাল থেকে খালেদার সঙ্গে কারাগারে তার গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে থাকার অনুমতি দেয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে একটি মানহানি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবিবের আদালতে মামলার বাদী জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী এ আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত বাদীর আবেদনটি গ্রহণ না করে আগামী ১৪ মার্চ গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য দিন ধার্য করেন। এদিন কারাবন্দী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দেখা করতে চেয়ে বিফল হয়েছেন চিকিৎসকরা। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানান সাত চিকিৎসক। তবে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের সাক্ষাতের অনুমতি না দিয়ে প্রয়োজনে ডাকা হবে বলে জানিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।-ডেস্ক