প্রশান্ত কুমার জুন/ এম. আহসান কবির (দিনজপুর২৪.কম) বৃহত্তর দিনাজপুরে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এনএন বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে তাদের মানহীন কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এনএন বিল্ডার্স বৃহত্তর দিনাজপুরে ১২ কোটি টাকা খাদ্য গুদাম নির্মাণ কাজ দেশের সকল নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজের নিয়মনীতিকে পিছনে ফেলে যেমন ইচ্ছা তেমন ভিত্তিতে এই সরকারী নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। খোদ খাদ্য অধিদপ্তরে এই নির্মাণ কাজের গুণগত মান দেখভালের জেলা পর্যায়ে কেউ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে. বাংলাদেশ খাদ্য অধিদপ্তর এর আওতাধীনে ১.০৫ লক্ষ মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণের একটি দরপত্র গত ২০০০ সালে সম্পন্ন হয়। ঐ দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান এন.এন বিল্ডার্স দরপত্র প্রাপ্ত হয়ে সাড়ে ৩ হাজার মেঃটন খাদ্য শস্য সংরক্ষণ করার মত বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার ৫টি স্থানে নতুন গুদাম নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। গতকাল ঐ কার্যাদেশের আওতায় দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার খাদ্য গুদামে ৫’শ মেঃ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি গুদাম ঘর নির্মাণ প্রক্রিয়ায় গুদামটির ফ্লোর ঢালাইয়ের কাজের অনিয়মের খবর পেয়ে দিনাজপুর২৪.কম এর এক প্রতিনিধি দল নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করতে গেলে, নির্মাণকাজে অভাবনীয় ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। যা ইতিপূর্বে খাদ্য অধিদপ্তর এর আওতাধীন খাদ্য গুদাম নির্মান কাজে সকল নিয়মনীতিকে পিছনে ফেলে যেমন ইচ্ছা তেমন ভিত্তিতে ঢাকাস্থ এন.এন বিল্ডার্স সেই নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গুদাম ঘরটির ফ্লোর ১৫৭০ স্কোয়ার ফিট ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ব্যবহৃত সিমেন্ট, রড, ষ্টোন চিপস্, সেন্ড প্রতিটি সামগ্রী মানহীন। ৬ ইঞ্চি পুরো ঢালাইয়ের স্থলে পাওয়া গেছে কোথায় সাড়ে ৪ ইঞ্চি, কোথায় ৫ ইঞ্চি, কোথায় অনুর্দ্ধ সাড়ে ৫ ইঞ্চি। ঢালাইয়ের রডের খাচার স্থলে ১০মিলি ৬০ গ্রেড রড দিয়ে ১০ ইঞ্চি পর পর খাচা বাঁধানো নিয়ম থাকলেও সেখানে দেখা গেছে পুরোনো রড দিয়ে কোথায় ১১ ইঞ্চি, কোথায় ১২ ইঞ্চি পর পর খাচার বাঁধন লক্ষ্য করা গেছে।
ঢালাইয়ের মশলার প্রক্রিয়া ১ঃ ১.৫ঃ ৩  এর স্থলে ১ কড়াই সিমেন্ট, ৭ কড়াই বালি  ও ধুলো মাখানো ৭ কড়াই স্টোন চিপস্ দিয়ে মসলা নির্মান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। সকাল ১০ টায় ঢালাইয়ের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও খাদ্য বিভাগের কারও অনুপস্থিতিতে সকাল ৯ টা থেকে ঢালাই এর কাজ শুরু হয়। নির্মাণ স্থলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কেউ আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে  বেসরকারি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ঢাকস্থ স্থপতি সংসদ লিঃ এর সিনিয়র কনসালটেন্ট পরিচয়দানকারী কাত্তিক চন্দ্র বর্মণ এ প্রতিনিধিকে জানান, চিরিরবন্দরসহ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার খাদ্য গুদামে ও ঘোড়াঘাট উপজেলার রাণীগঞ্জ খাদ্য গুদামে দুটি ৫’শ মেঃটন খাদ্য শস্য ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন গুদাম নির্মান হচ্ছে। আমাদের এই প্যাকেজের আওতায় ঠাকুরগাঁও ভোমরাদাহে ১ হাজার মেঃটন খাদ্য শস্য ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি ও পঞ্চগড় জেলার পাঁচপীর বাজার খাদ্য গুদামে ১ হাজার মেঃটন খাদ্য শস্য ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আরা ২টি খাদ্য গুদাম ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। কার্ত্তিক চন্দ্র বর্মনের কাছে এই নির্মাণ কাজে তদারিক করার জন্য জেলা খাদ্য গুদামের কেউ এখানে উপস্থিত আছেন কি না? প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, দিনাজপুর খাদ্য বিভাগের আরএমও ঢালাই কাজে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। তিনি আসছেন সম্ভবত রাস্তায় রয়েছেন। চিরিরবন্দর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গতকালই এই কাজে সাইড সুপারভাইজার রাসেল আমাকে হঠাৎ করে গতকাল জানান, গতকাল রোববার ফ্লোর ঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে। সকাল ১০ টার পর ফ্লোর ঢালাইয়ের ২/৩ অংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে দিনাজপুর খাদ্য বিভাগের আরএমও আরশাদ আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, এতদ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়ে গেল? তিনি ঠিকাদার প্রতিনিধিদের জানান, আজ আপনারা ফ্লোর ঢালাই দিবেন হঠাৎ করে এ কথা ২/৪ দিন আগে না বলে গতকাল বিকেলে আমাকে জানিয়ে এ কাজ শুরু করলেন কেন? আমি এসেও দেখছি আপনারা ২/৩ আংশ কাজও সম্পন্ন করে ফেলেছেন। এক পর্যায়ে আরএমও আরশাদ আলী মুখোমুখি হলে তিনি জানান, এই প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ কাজের গুরুত্বপূর্ন অংশগুলো শুরু করার ২৪ ঘন্টা তো দুরের কথা ১৬ ঘন্টা আগেও আমাদের খবর দেয় না। আরএমও’র কাছে, বিক্স, সিমেন্ট, সেন্ড, রড এসবের ল্যাবরিটরির টেস্ট রিপোর্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আপনার কাছে জমা দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করেছে কি না, প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আমার কাছে না দিয়ে তারা নাকি কেন্দ্রীয় খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, খাদ্য গুদাম নির্মাণ কাজের আমরা শুধু অগ্রগতির প্রতিবেদনই প্রদান করতে পারি। কাজের গুণগতমান ও নির্মাণ সামগ্রীর গুণগতমান পরীক্ষা করার জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের কোন সাইড ইঞ্জিনিয়ার এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এখনো দিনাজপুর জেলায় প্রেরণ করেননি। যিনি গুণগতমাণ দেখভাল করবেন। চলবে —-