(দিনাজপুর২৪.কম) ধরে নেয়া যাক বৃষ্টি হচ্ছে- মাঠে খেলা নেই। ক্রিকেটাররা আছেন ছুটিতে। কি করতেন তখন তারা? নিশ্চয় বৃষ্টি উপভোগ করতেন প্রাণের পরশে। শ্রাবণের অঝোর ধারায় মুগ্ধ হতেন। কিন্তু এবার শ্রাবণের এই বৃষ্টি ধারা উপভোগ করতে পারছেন না জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। খেলতেও পারছেন না ছুটিও নেই। তাই বিরক্তই হচ্ছেন। যেমন হোটেলে নাসির হোসেন মাহমুুদুুল্লা রিয়াদকে জানালেন সেই বিরক্তির কথা। সেই প্রথম দিন শেষ বিকালে ব্যাট করতে নেমে ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। তারপর আরও তিনটি দিন কেটে গেছে মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। তাই রিয়াদকে  বলেন, ‘ভাইয়া ভাল লাগছে না। দুদিন ধরে নট আউট আছি।’ পরক্ষণেই রিয়াদ নিজের বিরক্তি নিয়ে বলেন, ‘আমরা সবাইতো চাচ্ছি  খেলতে। এখন  তো পরিস্থিতির শিকার।  দেখা যাক কাল (আজ) কি হয়?  আসলেই এটা বিরক্তকর। আমরা যদি খেলাটাই না  খেলতে পারি তাহলে  তো আর কিছুই হলো না। ভাল না খারাপ খেলি সেটা পরের বিষয়। আগে তো আমাদের চেষ্টা করতে হবে।’ দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় দলের সঙ্গে খেলার সুযোগ খুব একটা হয় না বাংলাদেশের। ১৫ বছরে মাত্র ১০ টেস্ট খেলার সুযোগ হয়েছে। এর মধ্যে এই সিরিজের দুটি ম্যাচই প্রায় ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। এমন ভাবে খেলতে না পারা শুধু বিরক্তিরই নয়, কষ্টেরও। মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা খুব কঠিন একটা বিষয়। আপনি যখন পাঁচদিন খেলার পরিকল্পনা ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবেন, তারপর টানা তিনদিন খেলা পরিত্যক্ত হওয়া স্বাভাবিকভাবেই বিরক্তিকর। এ সময়ে ব্যক্তিগত প্রস্তুতিও  প্রয়োজন যেন আমরা ফোকাস থেকে সরে না যাই। তবে আমরা যখন হোটেলে ছিলাম আমার মনে হয়, বিশ্রামের সময়টাও উপভোগ করা উচিত। এরপর যখন মাঠে আসব তখন আমাদের সজাগ হওয়া উচিত। কারণ আমরা ওই সময়ে ম্যাচের প্রস্তুতি নেব।’
অন্যদিকে টেস্টে এখনও বাংলাদেশ দলের নিজেদের ৬০ ভাগ যোগ্যতা কাজে লাগাতে পারেনি। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, ইমরুল কায়েস এমনকি মাহমুদুল্লা রিয়াদ নিজেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ। তবে এখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে দল। রিয়াদ বলেন, ‘আমার মনে হয় যাদের কথা বললেন তারা সবাই এটা অনুভব করছে। এটা বড় একটা সুযোগ। কারণ প্রথম ২০-৩০ রান  তোলা কঠিন। ওটা কঠিন সময়। তখন স্বাভাবিক খেলার নিয়ম। তিন-চার জন আমরা ২০-৩০-৩৫-৪০ রান করে আউট হয়ে  গেছি। আমার মনে হয় টেস্ট ক্রিকেটে এটা একটা অপরাধ। আমাদের গ্রুপ করে ব্যক্তিগতভাবে আলাপ করে  বের করতে হবে কি সমস্যা হচ্ছে? যেন এখান থেকে আমরা বের হতে পারি। ইনশাআল্লাহ আমরা দ্রুতই সমস্যার সমাধান করে ফেলব। এমনকি আজ  (গতকাল) সকালে ইমরুলের সঙ্গে নাস্তা খাওয়ার সময় আলাপ করছিলাম যে ম্যাচ হলে কি হতে পারে। এগুলো প্রায়ই আমরা আলাপ করি। রুমে যখন থাকি তখন ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটাই। কিন্তু যখন বের হই তখন ক্রিকেট নিয়েই আলোচনা। পরিস্থিতি কি কি হতে পারে? আমাদের কি করা উচিত? একটু-আধটু আইডিয়া শেয়ার করা হয়।’
এরই মধ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরে আসছে ক্রিকেটের অন্যতম শক্তি অস্ট্রেলিয়া। অক্টোবরের ৬ তারিখ থেকে দুটি টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে অজিরা। তাই প্রোটিয়াদের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য প্রস্তুতি হয়ে যেত। কিন্তু তা হলো না। এই বিষয়ে রিয়াদ বলেন, ‘পুরো পাঁচদিন যদি দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারতাম তাহলে প্রস্তুতিটা খুবই ভাল হতো। আমরা হারি-জিতি যাই হতো সেটা আমাদের কাজে দিত। কারণ আমরা বিশ্বের সেরা দলটির বিপক্ষে  খেলতাম। এটা  আমাদের জন্য ইতিবাচক হতো, ভাল হতো। আমাদের স্কিলগুলোকে আরও ঝালিয়ে নিতে পারতাম। তবে  অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে  শুনলাম বিসিএল শুরু হবে। এটা ইতিবাচক দিক। দুই সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার পর হয়ত ট্রেনিং শুরু হবে। এরপর আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা। যদি বিসিএল খেলা হয় তাহলে  ম্যাচ খেলেই নিজেদেরকে ঝালিয়ে নিতে পারবো।’-ডেস্ক