-ছবি : সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) কক্সবাজারের চকরিয়ায় বৃদ্ধ নুরুল আলমের (৭২) লুঙ্গি-গেঞ্জি ছিঁড়ে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের এক নারী সদস্যসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এ ঘটনার জেরে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির পদ থেকে আনছুর আলমকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির।

বৃদ্ধের ছেলে আশরাফ হোছাইন বাদী হয়ে এজাহার থানায় জমা দেওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান এজাহারটি মামলায় রেকর্ড করেন।

মামলার আসমিরা হলেন- উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য আরেজ খাতুন (৪৮) ও তার স্বামী মো.শাহ আলম (৫২), একাধিক মামরার আসামি ও ওয়ার্ড যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি আনছুর আলম (৩৭), বদিউল আলম (৫৫), বদিউল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান (২৮), আবদুল জাব্বারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৩২), জয়নাল আবেদিন (৩০) ও মনজুর আলমের ছেলে মো. রুবেল (২৮)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘বৃদ্ধকে মারধর ও লাঞ্ছিতের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসপি মহোদয়ের নজরে আসে। তিনি বিষয়টি দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত আসামিদের ধরতে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। অপরাধী যে দলেরই হোক তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ার একটি নির্জন জাযগায় গত ২৪ মে বিকেলে যুবলীগ নেতা ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলার আসামি আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে বৃদ্ধ নুরুল আলমকে অমানবিক নির্যাতন ও মারধর করে তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হলে ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসে।

এজাহারে বাদী দাবি করেছে, ‘গত ২৪ এপ্রিল আমার বৃদ্ধ বাবা নুরুল আলম ঈদের বাজার করে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে টমটম গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টমটম থেকে আমার বাবাকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পরনে থাকা লুঙ্গি, গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলে। পাশাপাশি মারধর ও অসভ্য গালিগালাজও করে। কয়েকজন যুবক এসব ঘটনা মোবাইলের ক্যামরাতে ধারণ করে। এ সময় আমার বাবা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে।

পরে ঘটনাটি শোনার পর আমার ছোট ভাই সিএনজি চালক সালাহউদ্দিন স্থানীয় লোকজনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার বাবাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করান।’

মামলার বাদী আশরাফ হোসাইন এজাহার আরও দাবি করেন, ‘ঘটনার সময় আমার বাবার ব্যবহৃত একটি মোবাইল সেট ও পকেটে থাকা নগদ সাড়ে ৭ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয়।’

আশরাফ হোসাইন আরও বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আমার বাবার ওপর অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে ঘটনার অন্যতম সন্ত্রাসী আনছুর আলম। সে স্থানীয় যুবলীগের নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা সে করে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকু বলেন, ‘তুচ্ছ একটি ঘটনার জের ধরে এমন অমানবিক আচরণ করা হয়েছে বয়স্ক নুরুল আলমের সঙ্গে। তিনি এই এলাকার বয়োবৃদ্ধ। তিনি একজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা। সবাই ওনাকে খুব সম্মান করে।
এলাকার কিছু চিহিৃত সন্ত্রাসী ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বিষয়টি আমাকে জানানোর পর থানায় এজাহার দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।’

ঘটনার বিষয়ে জানতে অনেকবার চেষ্টা করা হলেও আনছুর আলমের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো.মতিউল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টা আমি ফেসুবকে দেখেছি। দেখার পরপরই ওসিকে মামলা রেকর্ড করার জন্য নির্দেশ প্রদান করি। এ ঘটনায় আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।’ -সূত্র : আ. সময়