(দিনাজপুর২৪.কম)বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়ের নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। ১৯৩৬ সালের এদিনে তিনি নড়াইলের সদর উপজেলার (মহিখোলা) বর্তমান নূর মোহাম্মদ নগরে জন্ম গ্রহণ করেন।
দিবসটি পালন উপলক্ষে নূর মোহাম্মদ নগরে জেলা প্রশাসক ও নূর মোহাম্মদ ট্রাস্টের আয়োজনে বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এর স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, র‌্যালি, র‌্যালি ও মুক্তিযোদ্ধা ভিত্তিক চলচিত্রপ্রদর্শনী, গার্ড অব অর্নার প্রদান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণী, দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান, নূর মোহাম্মদ ট্রাস্টের সদস্য সচিব আজিজুর রহমান ভূঁইয়া।
নূর মোহাম্মদ ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ তৎকালীন ইস্ট পাকিস্থান রেজিমেন্টে যোগদান করেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর দিনাজপুর সেক্টরে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৭০ সালের ১ জুলাই যশোর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে বদলি হয়ে আসেন। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ ৮ নং সেক্টরে সাবেক ইপিআর ও বাঙ্গালি সেনাদের নিয়ে গঠিত একটি কোম্পানিতে যোগদান করেন।
একাত্তরের ৫ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি গ্রামের সম্মুখ যুদ্ধে একটি টহলের নেতৃত্ব দিচ্ছেলেন। সঙ্গী ছিল আরও ৪ জন সৈন্য। তারা পার্শ্ববর্তী ছুটিপুর পাক হানাদার বাহিনীর ঘাঁটির ওপর নজর রাখছিলেন। পাকবাহিনী টের পেয়ে বিপদজনক অবস্থার মুখে টহলদারী মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করে। হানাদারদের এই পরিকল্পনা বুঝে উঠতেই নূর মোহাম্মদ সঙ্গীদের নিয়ে হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণ করেন। শুরু হয় সম্মূখ যুদ্ধ। মারাত্মক আহত হন সঙ্গী নান্নু মিয়া। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হানাদারদের মর্টার শেল মারাত্মকভাবে জখম করে নূর মোহাম্মাদকে।
মৃত্যু আসন্ন বুঝে তিনি সিপাহী মোস্তফা কামালের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে আহত নান্নু মিয়াকে নিয়ে সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেন। উপায়োন্তর না পেয়ে তারাও তাই করলেন, কিন্তু একটি এসএলআর রেখে যান মারাত্বক আহত কমান্ডারের কাছে। নূর মোহাম্মাদ মৃত্যুপথযাত্রী হয়েও এসএলআর নিয়ে শেষবারের মত ঝাঁপিয়ে পড়েন হানাদারদের ওপর সেখানেই তিনি শহীদ হন। পরবর্তীতে নিকটবর্তী একটি ঝোঁপের মধ্যে এই বীরের মৃতদেহ পাওয়া যায়।-ডেস্ক