-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতিস্বত্তার কাণ্ডারি, স্বাধীন বাংলাদেশের অবিসংবাদিত মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতে দখলদার পাক শত্রু সেনা ও তাদের দোসর রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে বীর বাঙালি যোদ্ধারা সশস্ত্র যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।

দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর সামনে নত শিরে পরাজয় বরণ করে নেয় পাক সেনারা। আসে সেই কাঙ্খিত বিজয়, অর্জিত হয় মুক্তিকামী কোটি বাঙালির সোনার বাংলাদেশ।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। সারাবিশ্বের সামনে সেদিন তারা তুলে ধরেছিলো এ জাতির ওপর পাক সেনাদের বর্বর শোষণ, নিপীড়ন আর বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার বিভীষিকাময় দৃশ্য।

বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করেছিলো বাঙালির ন্যায্য প্রাপ্তির সমর্থনে। শুধু তাই নয়, বহু বিদেশি সাংবাদিক প্রত্যক্ষ যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এই নিবেদিত সহযোগিতা না থাকলে হয় তো হারিয়ে যেতো মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু ঐতিহাসিক দলিল।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ব বিবেকের সশ্রদ্ধ অভিবাদন প্রকাশ স্বরূপ আজ ৪৯তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ সংবাদ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য ও অকুতোভয় বীর বাঙালির কথা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালনকারী প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের বার্তা সংস্থা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পাক বাহিনীর আত্মসমর্পনের আগের দিন অর্থাৎ ১৫ ডিসেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সেই সঙ্গে সংস্থাটি তাদের পোর্টাল ভার্সনে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় এনেছে রোববার বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রাজাকের তালিকা প্রকাশের বিষয়টিও।

হিন্দি ভাষায় প্রকাশিত অপর একটি ভারতীয় বার্তা সংস্থা তাদের আন্তর্জাতিক বার্তা বিভাগের প্রধান প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের ঐতিহাসিক ঘটনা সম্বলিত একটি বিশেষ প্রতিবেদন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব কিভাবে বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিলো আর কিভাবে বাঙালি জাতি পাক সেনাদের পর্যুদস্ত করে রণাঙ্গণে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ভারতীয় মিত্র বাহিনীর বীরত্বের কথাও উল্লেখ করেছে।

আজ থেকে ৪৮ বছর আগে বিশ্ব মানচিত্রে একটি নতুন জাতি বাংলাদেশ আবির্ভূত হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের অংশ হওয়া এই দেশ দীর্ঘ সহিংস লড়াইয়ের পরে স্বাধীন দেশ হিসেবে অস্তিত্ব লাভ করেছিল।

ভারতও এই নতুন দেশের জন্মের ক্ষেত্রে একটি অর্থবহ এবং সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। এর আগে বাংলাদেশ পূর্ব পাকিস্তান হিসাবে পরিচিত ছিল। তখন ভাষা ও আন্দোলনের সময়ই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফ্রন্টে পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের বীজ রোপিত হয়েছিল।

যা তাদের স্বাধীনতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে।


” অস্ট্রেলিয়ার বার্তা সংস্থা দ্য সিডনি হ্যারাল্ড (The Sydney Morning Herald) ‘From the Archives, 1971 : East Pakistan capitulates’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন সময়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রকাশিত আর্কাইভ নিউজের আলোকে তারা তুলে ধরেছে তৎকালীন সংগ্রামের এক একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনের সার আলোচনা। সে সঙ্গে তারা বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রগতিশীল পথ চলারো প্রশংসা করেছে।

শ্রীলঙ্কার বার্তা সংস্থা দ্য শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান (Srilanka Gurdian) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ প্রতিবেদ করেছে। Blood Of A Nation- It was the People’s War in the 1971 in Bangladesh শিরোনামে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে মুক্তিকামী জাতির রক্তাক্ত সংগ্রামের আখ্যা দিয়ে বার্তা সংস্থাটি বলেছে, একটি জতির রক্তাক্ত সংগ্রাম শেষে অর্জিত বিজয়ের অভূতপূর্ব অর্জন রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে। বাংলাদেশের ইতিহাস সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জন্য এক উদ্দীপ্ত আদর্শ।

সংস্থাটির মতে, ১৯৭১ সালের এই সংগ্রাম ছিলো প্রকৃত পক্ষেই গণমানুষের মুক্তির সংগ্রাম, তাই এই বিজয়ও বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্যে অর্জিত।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা দ্য স্ক্রল (Scroll.in)- ‘Bangladesh Liberation War : Recalling December 15, 1971- the day before Pakistan surrendered’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৫ ডিসেম্বরের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের প্রেক্ষাপট ও মিত্র বাহিনীর অন্তিম আঘাতে পাক দুর্গ পতনের ইতিহাস।

বিজয় প্রাপ্তির আগের দিন ঘটে যাওয়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বর্ণনা ও তাৎপর্য উল্লেখ করে তা কীভাবে পরবর্তী দিন পাকিস্তানের আত্মসমর্পনকে ত্বরান্বিত করে সে বিষয়টিই প্রাধান্য দিয়েছে স্ক্রল। -ডেস্ক