(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরুন। আমরা যাতে দ্রুত মিয়ানমাররের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফেরাতে পারি সে জন্য ভূমিকা রাখবেন। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়- আমরা এই নীতিতে সবার সঙ্গে সুসর্ম্পক রাখতে হবে।
আজ রবিবার সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত দূত সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
‘মানুষ ও শান্তির জন্য কূটনীতি’ শীর্ষক ৩ দিনব্যাপী সম্মেলনে বিশ্বের ৫৮ দেশে থাকা বাংলাদেশের কূটনীতিকরা অংশ নিয়েছেন। এ দূত সম্মেলনের আয়োজন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, ‘বিদেশে যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতা বিরোধী ও বিভিন্ন এজেন্সির চালানো পরিকল্পিত অপপ্রচার মোকাবিলায় বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোকে তৎপর হতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে হবে। আমরা নিজের দেশের মানুষের ভাগ্যের যেমন উন্নয়ন করতে চাই,  তেমনই প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষেরও। সবাইকে এক সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে, তবেই উন্নয়ন তরান্বিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়ে সম্প্রতি মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের করা সমঝোতা চুক্তি একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য।’ বিশ্বে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরুন : প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও। বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপালের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বিবিআইএন চুক্তি করেছি। ভারত-চায়না-মিয়ানমারের মধ্যেও যোগাযোগ স্থাপনের চুক্তি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বিদেশে ৫টি মিশন বন্ধ করে দেয়। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলো পুনরায় খোলাসহ মোট ২৭টি মিশন চালু করেছি। নতুন করে ভারতে আরও একটি মিশন খোলা হবে। এটা চেন্নাই ও শিলিগুড়িতে হতে পারে। যেখানে চালু করলে বাংলাদেশ বাণিজ্যসহ সার্বিক দিক দিয়ে লাভবান হয় সেখানেই খোলা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রবাসীরা যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাদের সঙ্গে যেন মানবিক দৃষ্টি দিয়ে কাজ করবেন। তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করবেন।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘দেশের মানুষ ভোট দিলে ক্ষমতায় আসবো, না দিলে আসবো না। আগামী নির্বাচনে জয় আসুক বা না আসুক, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে এমন কিছু যেন না হয়।’
সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশ্যে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। -ডেস্ক