(দিনাজপুর২৪.কম) জেলার বিরামপুরে গত ৩১শে মার্চ ইউপি নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করায় ওই উপজেলার তিন গ্রাম নারী পুরুষশূন্য হয়ে ভূতুরে গ্রামে পরিণত হয়েছে।

উপজেলার বিনাইল ইউপির মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই, পুলিশকে আঘাত ও কাজে বাধা দেয়ায় বিরামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় পুলিশের গণ গ্রেপ্তারের ভয়ে কৃষ্টবাটি, মোহনপুর, বাকুন্দা গ্রাম নারী পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

এর ফলে স্থানীয় মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে এবং বিনাইল উচ্চ বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে।

কৃষ্টবাটি গ্রামের হাকিম উদ্দিন জানান, মামলার পর আতঙ্কে  প্রায় সকলেই গ্রাম ছাড়া। ফলে ওই গ্রাম ৩টিতে ডাকাতটি ও চুরি হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে গ্রামবাসীরা।

বাকুন্দা গ্রামের দবিরউদ্দিন (৭৫) বলেন, ‘ভোটের দিন রাত্রে আমাদের গ্রামে পুলিশ এসে কয়েকজনকে আটক করে। পরে গ্রামের বাকি নারী পুরুষরা পালিয়ে যায়।’

বিনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন,‘পুলিশের গ্রেপ্তারের ভয়ে আমার বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকজন আত্মগোপন করে থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে।’

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুজ্জামান জানান, ব্যালট পেপার ছিনতাই, পুলিশকে আঘাত ও কাজে বাধা দেয়ায় ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. মাহামুদুর রহমান বাদী হয়ে বিরামপুর থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্য থেকে যাচাই বাছাই করে ৩ জনকে  আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। -ডেস্ক