আতিউর রহমান (দিনাজপুর২৪.কম) বিরলে “আমিই পারি শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতা বন্ধ করতে -বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে” স্লোগানে শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নতুন প্রচারাভিযান গ্লোবাল ক্যা¤েইন-বাংলাদেশ শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বিরল এডিপি’র আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মেজবাউল হোসেন। এডিপি ম্যানেজার মি. সুজিত কস্তা’র সভাপতিত্বে ও প্রোগ্রাম অফিসার রিচার্ড তাপস দাস এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজা বেগম সোনা, প্রাথমিক সশিক্ষা অফিসার প্রত্যুষ কুমার চট্টপাধ্যয়, মহিলা বিষয়ক অফিসার রুনা পারভীন, সমবায় অফিসার আব্দুস সবুর, সহকারী শিক্ষা অফিসার ইউনুস আলী, এনজিও ফোরাম সভাপতি তাহেরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে শিশু অধিকার ও সহিংসতা নিরসনে ব্যাপক আলোচনা হয়। এছাড়া সরকারী-বেসরকারী সংস্থা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও সাংবাদিক বৃন্দ, অভিভাবক, শিক্ষক শিক্ষিকা ছাত্রছাত্রীবৃন্দ এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
ক্যাম্পেইন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার শিশু-সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। যার সফলতা বেশ লক্ষ্যণীয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতার হার কমেনি বরং নিত্য নতুন পন্থা ও মাধ্যম ব্যবহার করে শিশুদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। ইউনিসেফ পরিচালিত জরিপের তথ্যমতে, ১-১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৮২% শিশুই বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার।
শিশুর প্রতি এই সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরতে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, ওয়ার্ল্ড ভিশন ও শিশু অধিকার এ্যাডভোকেসি জোট যৌথভাবে “আমিই পারি শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতা রোধ করতে” শীর্ষক একটি প্রচারাভিযান আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে। এই প্রচারাভিযানের লক্ষ্য হলো শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের পরিচালিত উদ্যোগগুলোকে সহায়তা করা, বিশেষ করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১৬.২ (শিশুর প্রতি অনাচার, দুর্ব্যবহার, পাচার, এবং সব ধরণের সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধ করা) প্রতিষ্ঠিত করা।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের এই প্রচারাভিযানের লক্ষ্য এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার সাথে সঙ্গতি রেখে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে শিশুর বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতা বন্ধে অবদান রেখে বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ শিশুর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। এই উদ্দেশ্যে ওয়ার্ল্ড ভিশন বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সহিংসতা বন্ধে কাজ করবে, যা সামাজিক রীতিনীতি, আচার আচরণ এবং স্বভাব পরিবর্তনের মাধ্যমে সর্বস্তরে  শিশু-সুরক্ষার সিস্টেমগুলিকে জোড়দার করবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ দেশের ৩৪টি জেলার ৮০০টি শিশু ফোরামের মাধ্যমে প্রায় ২ লক্ষ শিশু প্রতিনিধির সাথে এই লক্ষ্য পূরণে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং শিশু অধিকার এ্যাডভোকেসি জোট সক্রিয়ভাবে মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে শিশুর প্রতি সব ধরণের সহিংসতা বন্ধে কাজ করবে।